লেবাননের সশস্ত্র গোষ্টী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধকৌশলের কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল মঙ্গলবার তিনি বলেন, তাদের খুঁজে বের করতে আবাসিক ভবনগুলোতে বোমা হামলা চালানোর কোনো প্রয়োজন ছিল না।
কিছুদিন আগেই বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির বিষয়টিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
তার মতে, ইসরায়েল ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ‘দীর্ঘ সময়’ ধরে সংঘাতে জড়িয়ে আছে।
ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, অনেক প্রাণহানি হয়েছে। কাউকে খোঁজার জন্য প্রতিবার একেকটি আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ ভবনগুলোতে অনেক মানুষ থাকে এবং তারা সবাই হিজবুল্লাহ নয়।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝেই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য সামনে এলো। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক ও রাজনৈতিক মৈত্রী ছিল।
সম্প্রতি এই টানাপোড়েন আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের করা ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা গোপনে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
বৈরুতে ইসরায়েলের হামলার কারণে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর বিরক্ত ছিলেন। কারণ, ট্রাম্প যখন শান্তি চুক্তি নিয়ে কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই ইসরায়েলি হামলার কারণে ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে দেয়।
ইসরায়েলের যুদ্ধরীতির সমালোচনা করলেও ট্রাম্পের দাবি, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। তবে তিনি এও বলেন, লেবাননের বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ‘আরও দায়িত্বশীল‘ হওয়া উচিত।
ট্রাম্প বলেন, আমাদের ছাড়া, অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না। আমি না থাকলে ইসরায়েল থাকত না, কারণ অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট তা করতে রাজি ছিলেন না, যা আমি করেছি।
লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান সীমিত করতে ইসরায়েলের অস্বীকৃতি নিয়ে দুই নেতা বারবার দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন। উল্লেখ্য, সেখানে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা ইরানের একটি প্রধান দাবি।
সাধারণত ট্রাম্প বা অন্য কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইসরায়েলের সামরিক কৌশলের সমালোচনা করতে দেখা যায় না।
ট্রাম্পের সবশেষ মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই হোয়াইট হাউসের একটি অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সেই নির্দিষ্ট বক্তব্যের একটি ভিডিও পোস্ট করে।
কেন এই ভিডিওটি পোস্ট করা হলো সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও জানায়, নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রেসিডেন্টের শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের ‘দারুণ সহযোগী‘।
মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, এই চুক্তিটি তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখবে।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো এত বড় বন্ধু এবং শান্তির যোদ্ধা আর কেউ নেই। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কঠোর পদক্ষেপের কারণে আজ পুরো বিশ্ব এবং আমাদের মিত্ররা অনেক বেশি নিরাপদ।
যদিও ট্রাম্প ইসরায়েলের সমালোচনা করেছেন, কিন্তু এর ফলে ইসরায়েল তাদের যুদ্ধের ধরনে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে কি না, তার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। গাজায় হামলার কারণে ইসরায়েল বিশ্বজুড়ে কড়া সমালোচনার শিকার হচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সেখানে ৭৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের প্রায় সবাই বেসামরিক নাগরিক।
ইসরায়েল অবশ্য বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা বেসামরিকদের হত্যা করে না, বরং হামাস ও হিজবুল্লাহ সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাস এই খবর নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
