বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আলজেরিয়ার ম্যাচটি ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের নিচেও ছিল এক পরিচিত পদবি জিদান। ফ্রান্সের কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান, যিনি একসময় ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলের জার্সি গায়ে খেলেছেন, আজ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার হয়ে দাঁড়ালেন বাবার শেকড়ের প্রতিনিধিত্ব করতে। আর মুখে কালো সুরক্ষামূলক মাস্ক পরে মাঠে নামায় তাকে নিয়ে কৌতূহলও ছিল সমর্থকদের মধ্যে।
কানসাস সিটিতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে শেষ পর্যন্ত মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলে হার মেনেছে আলজেরিয়া। তবে ম্যাচজুড়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে লুকা দেখিয়েছেন কেন তাকে নিয়ে এত প্রত্যাশা ছিল। বিশেষ করে প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার একাধিক আক্রমণের সামনে তিনি দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। যদিও শেষ পর্যন্ত মেসির জাদুর সামনে তাকে পরাস্ত হতে হয়েছে।
লুকার আলজেরিয়ার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ছিল। কারণ তিনি জন্মেছেন ও বেড়ে উঠেছেন ফ্রান্সে, খেলেছেন ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-১৬ থেকে অনূর্ধ্ব-২০ দল পর্যন্ত। কিন্তু জাতীয় দলের মূল দলে সুযোগের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়ায় তিনি বেছে নেন পারিবারিক শেকড়ের দেশ আলজেরিয়াকে। জিনেদিন জিদানের বাবা-মা ছিলেন আলজেরিয়ার কাবিলি অঞ্চলের মানুষ। সেই সূত্রেই ফিফার অনুমোদন নিয়ে ২০২৫ সালে আলজেরিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন লুকা।
তবে সিদ্ধান্তটির পেছনে শুধু ফুটবলীয় হিসাব ছিল না, ছিল গভীর আবেগও। আলজেরিয়ার হয়ে অভিষেকের পর লুকা নিজেই জানিয়েছিলেন, এই পথ বেছে নেওয়ার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তার দাদা। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের মধ্যে আলজেরীয় সংস্কৃতির চর্চা দেখেছেন তিনি। জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার আগে দাদার সঙ্গে কথা বলেছিলেন, আর সেই সিদ্ধান্তে দাদা ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলেন। এমনকি আলজেরিয়ার জার্সিতে নিজের পিঠে ‘জিদান’ নাম ব্যবহার করার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন দাদার প্রতি সম্মান জানিয়ে।
লুকার এই যাত্রায় পাশে ছিলেন তার বাবা জিনেদিন জিদানও। যদিও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেননি তিনি। বরং ছেলেকে বলেছিলেন, এটি তার নিজের পছন্দ এবং শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তও তাকেই নিতে হবে।
আজকের ম্যাচে লুকার মুখে দেখা গেছে বিশেষ সুরক্ষামূলক মাস্ক। কারণ গত এপ্রিল মাসে স্প্যানিশ ক্লাব গ্রানাদার হয়ে খেলতে গিয়ে ভয়াবহ এক সংঘর্ষে চোয়াল ও থুতনির হাড় ভেঙে যায় তার। সেই সঙ্গে কনকাশনেও আক্রান্ত হন তিনি। একসময় শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, আদৌ বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন কি না। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেন তিনি। ঝুঁকি এড়াতে এখনও মুখের হাড় সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ মাস্ক পরে খেলছেন।
