Saturday, August 22, 2026
Homeবাংলাদেশখুলনায় জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

খুলনায় জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

খুলনার লবণচরা থানার হরিণটানা এলাকায় জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাব জানিয়েছে, তারা হলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফি ও তার সহযোগী রাফিকুল ইসলাম রাকিব।

শুক্রবার গোপালগঞ্জের মাঝিগাতী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি শটগান, একটি পিস্তল, শটগানের এক রাউন্ড গুলি ও তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

আজ শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৬ জানায়, গত ১৯ আগস্ট লবণচরা থানার হরিণটানার ৮০ বিঘা এলাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মো. মঞ্জুরুল ইসলাম (২৩) ও মো. নাজমুল (১৮) নামে দুই যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর র‌্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি তদন্ত শুরু করে। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে টুটপাড়া এলাকার সাইফি ও তার সহযোগীদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার গোপালগঞ্জে অভিযান চালিয়ে সাইফি ও রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

র‌্যাবের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে সাইফি জানান, নিহত নাজমুল তাদের দলের সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম রোহান-পলাশ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

সাইফির দেওয়া তথ্যের বরাতে র‌্যাব আরও জানায়, প্রতিপক্ষের লোকজন নাজমুলকে আটক করে ভিডিও কলে রেখে কোপায়। এর প্রতিশোধ নিতে সাইফি ও তার দলের ১৫-১৬ জন সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হরিণটানার ৮০ বিঘা এলাকায় যান।

সেখানে মঞ্জুরুলকে দেখতে পেয়ে তার বাবার সামনে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন সাইফি।

র‌্যাবের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দুই পক্ষের বিরোধ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত নগরীর নয় থানায় ২৪টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ১১ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বা অন্যভাবে হত্যা করা হয়।

নয় থানার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে লবণচরা থানায় ছয়টি। সদর থানায় পাঁচটি, আরংঘাটা, দৌলতপুর ও খালিশপুরে তিনটি, হরিণটানায় দুটি এবং সোনাডাঙ্গা ও খানজাহান আলী থানায় একটি করে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

Most Popular