Tuesday, October 6, 2026
Homeবিদেশসক্রিয় হচ্ছে মক্কা জোট, সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে তুরস্ক-পাকিস্তান

সক্রিয় হচ্ছে মক্কা জোট, সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে তুরস্ক-পাকিস্তান

হুতিদের সঙ্গে ইয়েমেন সরকারের চলমান সংঘাত মোকাবিলায় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে ‘যৌথ ব্যবস্থা’ সক্রিয় করতে এবং সৌদি আরবে দ্রুত সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান।

রিয়াদে ৩ দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠকে গতকাল সোমবার এ সিদ্ধান্ত হয় বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।

গত ৭ আগস্ট এই তিন দেশ ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ চুক্তি সইয়ের পর এই প্রথমবারের মতো তারা সক্রিয় কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে গেল।

চুক্তিতে বলা হয়, এই ৩ দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খালিদ বিন সালমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘সৌদি আরবের পবিত্র স্থানগুলোতে বর্বর হামলা মোকাবিলায় জোট সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে।’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের সম্মতিতে দ্রুত সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

এতে আরও বলা হয়, প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন ও অনুমোদিত ব্যবস্থার অধীনে এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে।

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি বাহিনী গত মাসে দেশটির সরকারি বাহিনীর সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়ায় এবং ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ বাব আল মান্দেব, মোখা বন্দরসহ বেশ কিছু এলাকা দখল করে নেয়।

তবে, সম্প্রতি ইয়েমেনি বাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করে এবং গতকাল ওই এলাকাগুলো পুনর্দখল করে নেয়। এর মধ্যেই ‘মক্কা জোটের’ সেনা মোতায়েনের ঘোষণার কথা জানা গেল।

সৌদি জোট ইয়েমেনি বাহিনীর সঙ্গে হামলায় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সৌদি ইতোমধ্যে ১০০টি যুদ্ধবিমান দিয়েছে ইয়েমেন সরকারকে।

ইরানে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই আগস্টে আত্মপ্রকাশ হয় ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের’।

‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৬’ অনুযায়ী, জোটের ৩ সদস্য দেশের সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৪ লাখ সক্রিয় সেনা, ৩ হাজার ৪০০ যুদ্ধবিমান, ৬ হাজার ট্যাংক ও ৩৪০টির বেশি যুদ্ধযান রয়েছে।

চুক্তির শুরুতে দেশগুলোর সামরিক সহায়তা নিয়ে বাধ্যবাধকতার বিষয়ে তেমন কিছু বলা না হলেও পরে ধীরে ধীরে এর সামরিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ সামনে আসে।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে হুতিরা সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছিলেন, সৌদিতে আক্রমণ করায় এই চুক্তি কার্যকর হতে পারে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গালফ ইন্টারন্যাশনাল ফোরামের জ্যেষ্ঠ গবেষক আবদুল আজিজ আলঘাশিয়ানের মতে, মক্কা চুক্তি সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত এ অঞ্চলের নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, হুতি হামলাই প্রকৃতপক্ষে মক্কা জোটকে সক্রিয় হতে ত্বরান্বিত করেছে। সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তার একটি নতুন কাঠামোর স্পষ্ট রূপরেখা দিচ্ছে।

Most Popular