তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশকিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান পুনর্বহালের সিদ্ধান্তও বহাল রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলগুলো খারিজ করে দেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চেয়ে করা আবেদনসহ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলগুলো খারিজ করেছেন আপিল বিভাগ।
তবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
রায়ের সময় আদালত কক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে। এর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে চালু হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবলিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করা হয়।
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম বহাল রাখা, সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং এর বাংলা ও ইংরেজি অনুবাদ যুক্ত করা, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিধান, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা বাড়ানো এবং সব সরকারি কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা।
এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাতিল করেন। এর মধ্যে ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বিধান এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ৩ নভেম্বর আপিল বিভাগে আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার নাগরিক। তারা পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিলের আবেদন জানান।
এ ছাড়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক আপিল করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
আপিল বিভাগের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বদিউল আলম মজুমদারসহ চার নাগরিকের পক্ষে শুনানি করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া, তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার রেদওয়ানুল করিম। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। এইচআরএসএসের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক। মো. মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।
এ ছাড়া তিন দিনের শুনানিতে ইন্টারভেনার হিসেবে ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক ও ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন অংশ নেন।
