ছাত্রী হলে প্রবেশের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার বেগম রোকেয়া হলের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘অবরোধবাসিনী’ প্ল্যাটফর্ম থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রস্তাবিত সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে ‘উপহাস’ হিসেবে উল্লেখ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নারীদের সাংবিধানিক ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন করে এমন একটি পশ্চাৎপদ নিয়ম বহাল রেখেছে।
অবরোধবাসিনীর অন্যতম নেতা অদিতি ইসলাম বলেন, ‘নারীদের বিরুদ্ধে এই পশ্চাৎপদ নিয়মটি ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের একটি বড় ক্ষত, যা আমরা এখনো বয়ে বেড়াচ্ছি। এটি নারীদের নয়, বরং কর্তৃপক্ষকে রক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে এই ধরনের বিধিনিষেধ নারীদের রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে ব্যবহৃত হয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন নারীদের যোগদানে বাধা দিতেই এই সান্ধ্য আইন জারি হয়।’
এমন বিধিনিষেধ সত্ত্বেও বড় রাজনৈতিক আন্দোলনগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণের বেশ কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরে অদিতি ইসলাম বলেন, ‘লীলা নাগ রোকেয়া হল থেকেই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, রওশন আরা বাচ্চু হলের প্রাচীর টপকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন এবং মালেকা বেগম হলের গেট ভেঙে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন।’
‘ছাত্রীদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য এই নিয়মটি কোনোভাবেই প্রণীত হয়নি। বরং, এটি পিতৃতন্ত্রের ছদ্মবেশী একটি অস্ত্র, যা সমাজে নারীদের বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে সম্মিলিত অংশগ্রহণের জায়গা সংকুচিত করে দেয়’, বলেন তিনি।
এক বিবৃতিতে ছাত্রী হলে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রবেশের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে ২৪ ঘণ্টা প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায় অবরোধবাসিনী।
একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে যেকোনো সময় ছাত্রীদের নিরাপত্তার পূর্ণ দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়কে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
গত ২৭ জুলাই থেকে তিনটি অভিন্ন দাবিতে তিনটি আলাদা প্ল্যাটফর্মের অধীনে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছেন।
দাবিগুলো হলো—রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে ছাত্রী হলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার নিয়ম বাতিল করা; ছাত্রীদের নারী আত্মীয়দের হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া, অনাবাসিক শিক্ষার্থী ও অন্য হলের শিক্ষার্থীদের বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে যেকোনো হলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া এবং অনুমতিক্রমে রাত যাপনের ব্যবস্থা করা।
এর আগে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি ছাত্রীদের হলে প্রবেশের সময়সীমা এক ঘণ্টা অর্থাৎ রাত ১০টা থেকে বাড়িয়ে ১১টা করার সুপারিশ করে।
তিনটি প্ল্যাটফর্মের নেতারাই এই সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ছাত্রী হলে অবাধ প্রবেশের যে দাবি তারা জানিয়েছিলেন, এটি তার কোনো সমাধান দিতে পারেনি।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সুপারিশ কার্যকর হতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
