Thursday, August 20, 2026
Homeবাংলাদেশছাত্রদল নেতার কফিশপে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

ছাত্রদল নেতার কফিশপে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রদল নেতার মালিকানাধীন কফিশপে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কফিশপের পরিচালক শাকিল মিয়া (২৮) মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে তাকে মারধর ও অচেতন করে নগদ ৩ লাখ ৩০ হাজার ৭০০ টাকা লুটের অভিযোগ করা হয়েছে।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তারা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন।

এতে বলা হয়, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম সংগ্রামের নেতৃত্বে বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের ছোট পাইকুরা গ্রামের ‘বাগান বিলাস কফি হাউসে’ হামলা চালানো হয়। এটির মালিক উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নোমান আহমেদ। তার ভাগনে শাকিল মিয়া প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে পাশের গ্রামের অন্তর মিয়া তার স্ত্রীকে নিয়ে কফিশপে গেলে সংগ্রামের ছেলে নাঈম মিয়া অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এ নিয়ে অন্তর মিয়ার সঙ্গে নাঈমের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। কফিশপ পরিচালক শাকিল পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

কিছুক্ষণ পর নাঈম তার বাবা মাজারুল ইসলাম সংগ্রাম, চাচা মাসুদ, মুখলেসসহ আরও ২০-২৫ জনকে নিয়ে কফিশপে যান। তারা অন্তর মিয়াকে না পেয়ে শাকিল মিয়ার ওপর হামলা চালান। তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে টেনে-হিঁচড়ে দূরে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলাকারীরা কফিশপের লাইট, চেয়ার, দোলনাসহ বিভিন্ন আসবাব ও সাজসজ্জার সামগ্রী ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। একইসঙ্গে ক্যাশ কাউন্টারে রাখা ৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং ওই দিনের বিক্রির ১৪ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে স্থানীয়রা শাকিল মিয়াকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

অভিযোগে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম সংগ্রাম (৫২) ছাড়াও তার ভাই মামুন মিয়া (৩৮), মোবারক (৪৫), মুখলেস (৩৫), মাসুদ মিয়া, নাঈম মিয়া (২২) ও সোহেল মিয়া (৪৬) এবং অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের মালিক ও উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নোমান আহমেদ ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে আগত এক কাস্টমারের স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সংগ্রাম ভাইয়ের ছেলে নাঈম পরে দলবল নিয়ে এসে ম্যানেজারকে মারধর করে, প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। আমি আইনের আশ্রয় চেয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা মাজারুল ইসলাম সংগ্রামকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে তার ছোট ভাই অভিযুক্ত মোহনগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ মিয়া ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি আগে ভালোভাবেই চলত। বর্তমান মালিক দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিবেশ বদলে গেছে। ঘটনার দিন নাঈমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ তুলে মারধর করা হয়। পরে নাঈম ফোন করে বিষয়টি জানালে আমরা কফিশপে যাই। সেখানে এক কর্মীর বাজে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছুটা হাতাহাতি হয়। তবে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে অন্য একটি ঘটনা।’

যোগাযোগ করা হলে মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন উভয় পক্ষের পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা শুনেছি। উভয়পক্ষই আইনিভাবে মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে বলে জেনেছি। কারও সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়নি। আমাদের কাছে এলে আমরা সমাধানের চেষ্টা করব।’

ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Most Popular