Wednesday, September 23, 2026
Homeবাংলাদেশসারের জন্য কুড়িগ্রামের কৃষকেরা পাচ্ছেন ‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’

সারের জন্য কুড়িগ্রামের কৃষকেরা পাচ্ছেন ‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’

চলতি আমন মৌসুমে সার নিয়ে নানা সংকটের প্রেক্ষাপটে কুড়িগ্রামে কৃষকদের জন্য নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। আসন্ন রবি মৌসুমে প্রকৃত কৃষকদের ‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’ দিয়ে সার বিতরণ করা হবে।

সাময়িক এই কার্ডে কৃষকের ছবি, নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জমির পরিমাণের মতো তথ্য থাকবে। প্রতিবার সার নেওয়ার সময় কার্ডে সারের পরিমাণ, ফসলের নাম ও বিতরণের তারিখ লিখে রাখা হবে।

কৃষি বিভাগ বলছে, এতে প্রকৃত কৃষক ছাড়া অন্য কেউ সার নেওয়ার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে একজন কৃষক কতটুকু সার নিয়েছেন, তার হিসাবও রাখা যাবে।

আসন্ন রবি মৌসুম মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত চলবে। এর আগেই জেলার কৃষকদের তালিকা হালনাগাদ করে কার্ড দেওয়ার কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে চিলমারী উপজেলায় কার্ডের জন্য কৃষকদের নিবন্ধন শুরু হয়েছে।

চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামে সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। সার বিতরণে অব্যবস্থাপনা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএস) ও ডিলার-খুচরা বিক্রেতাদের যোগসাজশ এবং কৃষক নন এমন ব্যক্তিদের সার নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে অনেক প্রকৃত কৃষক চাহিদামতো সার পাননি বলে অভিযোগ করেন।

সারের দাবিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং ডিলারের গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। কৃষি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিয়মিত বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত সারও দেওয়া হয়।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৮৪ হাজার। ২০১৪ সালে দেশব্যাপী কৃষি কার্ড তৈরি করা হলেও এরপর ওই তালিকা আর হালনাগাদ করা হয়নি।

এবার রবি মৌসুমের আগে ব্লক সুপারভাইজারদের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ওই তালিকার ভিত্তিতে সাময়িক মেয়াদের ‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’ দেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে সার দেওয়ায় প্রকৃত কৃষকের পাশাপাশি অন্যরাও সার নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে প্রকৃত কৃষকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, আগামী রবি মৌসুমে সুনির্দিষ্ট তালিকার ভিত্তিতে ‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’ তৈরি করে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হবে। এতে কৃষক ছাড়া অন্য কারও সার নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এবার ব্রহ্মপুত্রপাড়ে বন্যা না হওয়ায় চরাঞ্চলের কিছু নিচু জমি চাষের উপযোগী হয়েছে। সেখানে কৃষকেরা বিলম্বে আমন ও রবি মৌসুমের আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন। ফলে সারের চাহিদাও বেড়েছে।

এই বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় সরকার সেপ্টেম্বর মাসে কুড়িগ্রামের জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার টন ইউরিয়া, ৩২ টন টিএসপি ও ৩০০ টন ডিএপি বরাদ্দ দিয়েছে। এসব সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসের নিয়মিত বরাদ্দ হিসেবে জেলায় ৪ হাজার ৬৪৪ টন ইউরিয়া, ১ হাজার ৯১০ টন ডিএপি, ১ হাজার ৩২৬ টন এমওপি ও ৭০০ টন টিএসপি রয়েছে।

চিলমারীর থানাহাট এলাকার কৃষক বজলার রহমান (৬৫) বলেন, প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সঠিকভাবে কার্ড বিতরণ করা হলে তারা প্রয়োজনীয় সার পাবেন। তবে কার্ড যদি অকৃষকদের হাতে চলে যায়, তাহলে সার নিয়ে আগের মতোই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা চাহিদামতো সার পেতে চাই।

ভুরুঙ্গামারীর বঙ্গসোনাহাট গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন (৫৫) বলেন, তারা নতুন কার্ডের কথা শুনেছেন, তবে এখনো কারও হাতে কার্ড দেওয়া হয়নি। প্রকৃত কৃষকেরা কার্ড পেলে সার বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে মনে করেন তিনি।

Most Popular