Thursday, July 16, 2026
Homeখেলাএকজন চেনা শত্রু

একজন চেনা শত্রু

কিছু প্রতিপক্ষকে হারাতে হয় শক্তি দিয়ে, আর কিছু প্রতিপক্ষকে হারাতে হয় তাকে চেনার মধ্য দিয়ে। রোববার নিউইয়র্কের ফাইনালে লিওনেল মেসির সামনে যে দলটা দাঁড়াবে, তাদের তিনি প্রতিপক্ষ বলার চেয়ে বেশি চেনেন পরিবার হিসেবে। কারণ স্পেন নামের এই দলটার শিরায় শিরায় মিশে আছে সেই একই রক্ত, যা একদিন গড়ে তুলেছিল মেসিকেও।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেই বলেছেন কথাটা। স্পেনকে নিয়ে বলতে গিয়ে তার গলায় ছিল না কোনো অচেনা প্রতিপক্ষের সতর্কতা, বরং ছিল এক দীর্ঘ চেনাজানার আত্মবিশ্বাস। দুর্দান্ত এক দল, অসাধারণ সব খেলোয়াড় নিয়ে গড়া এই স্পেনকে তিনি বললেন এমনভাবে, যেন কারো জীবনবৃত্তান্ত পড়ে শোনাচ্ছেন।

এই চেনাজানার শেকড় লুকিয়ে আছে বার্সেলোনায়। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অধ্যায়টা মেসি লিখেছেন কাতালান শহরের সেই ক্লাবে, যেখানকার মাঠ, ড্রেসিংরুম আর অনুশীলনের প্রতিটি মুহূর্ত তাকে শিখিয়েছে স্পেনীয় ফুটবলের ভাষা। তাই আজ যখন তিনি স্পেনকে নিয়ে কথা বলেন, সেটা কোনো বিশ্লেষকের মন্তব্য নয়, বরং একজন সাবেক সহযাত্রীর অভিজ্ঞতা।

স্প্যানিশ দলটিকে খুব ভালো করেই চেনেন এবং তাদের যথেষ্ট সমীহ করছেন জানিয়েই মেসি বললেন, ‘স্পেন দুর্দান্ত একটি দল। তাদের অসাধারণ খেলোয়াড় আছে, খেলার ধরনও দারুণ। আমি এই দলকে খুব ভালো করেই চিনি। বছরের পর বছর তারা একই ফুটবল দর্শন অনুসরণ করে আসছে।’

দলটির অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে নিজের পরিচিতির কথাও উল্লেখ করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী, ‘অনেক খেলোয়াড়ের বিপক্ষে আমি খেলেছি, এখনও তাদের খেলা দেখি। তাদের কয়েকজন বার্সেলোনায় খেলে, যে ক্লাবটিকে আমি সবসময় ভালোবেসেছি এবং এখনও অনুসরণ করি।’

স্পেনের খেলাকে মেসি স্রেফ একটা কৌশল বলে মানতে নারাজ। তার চোখে এটা একটা দর্শন, একটা জীবনদৃষ্টি, যা তারা বছরের পর বছর ধরে বহন করে চলেছে মাঠের ভেতরে। বল দখলে রাখার সেই ধৈর্য, ছোট ছোট পাসে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে তোলার সেই কৌশল, মেসির কাছে এসব নতুন কিছু নয়, বরং তার নিজের ফুটবল-শিক্ষারই অংশ।

আর এই দলটার খেলোয়াড়দের সঙ্গেও মেসির সম্পর্ক নিছক প্রতিপক্ষের নয়। মাঠে মুখোমুখি হয়েছেন তাদের সঙ্গে, আবার মাঠের বাইরে থেকেও চোখ রেখেছেন তাদের পথচলার ওপর। কেউ কেউ এখনও খেলেন বার্সেলোনায়, সেই ক্লাব যাকে মেসি কখনো ভুলতে পারেননি, ভালোবেসে অনুসরণ করে গেছেন দূর থেকেও।

এই সব কারণেই ফাইনালটাকে মেসি অন্য চোখে দেখছেন। প্রতিপক্ষকে জানা থাকলে লড়াইটা সহজ হয় না, বরং অন্যরকম কঠিন হয়ে ওঠে, কারণ চমকের কোনো জায়গা থাকে না, থাকে শুধু নিখাদ শক্তির পরীক্ষা। সবশেষে ফাইনাল নিয়ে নিজের প্রত্যাশা জানিয়ে মেসি বলেন, ‘এটি বিশেষ একটি ম্যাচ হবে। দুই দলের মধ্যে খুবই সমানে সমান লড়াই হবে।’

Most Popular