দেশে গত ৬ মাসে মব-সহিংসতা ও গণপিটুনির ২৬১ ঘটনায় অন্তত ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৫৬ জন।
আজ মঙ্গলবার হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রকাশ করা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে (জানুয়ারি-জুন) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাকবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননাসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে এসব গণপিটুনি ও মব-সহিংসতার ঘটেছে।
২০২৫ সালের একইসময়ে এ ধরনের ১৪১ ঘটনায় অন্তত ৬৭ জন নিহত ও ১১৯ জন আহত হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
দেশের মূলধারার ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে ছয় মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এসব তথ্য সংকলন করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
সংখ্যালঘু নির্যাতন ও হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫০টি হামলার ঘটনায় ৫৬ জন আহত হয়েছেন। এসময়ে ১৯টি মন্দির, ১৫টি প্রতিমা ও ৪৩টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। জমি দখলের ৪টি ঘটনা ঘটেছে।
২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ১০টি হামলায় ৪ জন আহত হয়। ওই বছর ১টি মন্দির, ১১টি প্রতিমা ও ১৮টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে গত ছয় মাসের শ্রমিক নির্যাতনের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ছয় মাসে ৩৩১টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ৭৪ জন নিহত ও ১ হাজার ৩ জন আহত হয়েছেন।
২০২৫ সালে ১১২টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ৫৯ জন নিহত ও ৭২০ জন আহত হন।
এছাড়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও শ্রমিকদের সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে ও দুর্ঘটনায় ২১৬ শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন। ২০২৫ সালে একই কারণে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়।
বেতন ভাতার দাবিতে আন্দোলনের সময় এ বছর ২৬ শ্রমিককে আটক করা হয়। এছাড়া ২ জন গৃহকর্মী নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছে। এছাড়া, দুই গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম মানবাধিকার রক্ষায় আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল আচরণের পাশাপাশি দেশের সব নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনকে সোচ্চার ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
