Tuesday, June 16, 2026
Homeবাংলাদেশএপারে বিজিবি ওপারে বিএসএফ, শূন্যরেখায় ৬০ ঘণ্টা ধরে আটকে ৬ জন

এপারে বিজিবি ওপারে বিএসএফ, শূন্যরেখায় ৬০ ঘণ্টা ধরে আটকে ৬ জন

সামনে গেলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আর পেছনে গেলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের বাধা। এমন অবস্থায় নিরুপায় হয়ে সীমান্তের শূন্যরেখা বসে কাঁদছেন দুই শিশু, এক নারীসহ ছয় জন।

গত রোববার থেকে কুড়িগ্রামের রৌমারীর শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা। প্রচণ্ড গরমে শিশু দুটি ইতিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। নিরুপায় বাবা-মা চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছেন না, কেবল সন্তানদের বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন।

আটকে থাকা ছয় জন হলেন বেলাল হোসেন (৩৬), তার স্ত্রী সুমি আক্তার (৩০), তাদের দুই সন্তান ফাতেমা আক্তার (৪) ও ফাইমা আক্তার (ছয় মাস) এবং সজীব মিয়া (২৩)। বাকি এক ব্যক্তির নাম জানা যায়নি।

গয়টাপাড়া সীমান্তের বাসিন্দা গোলজার হোসেন বলেন, ‘মানবিক কারণে পানি এবং খাবারের ব্যবস্থা করছি আমরা। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে ওখানে বেশিক্ষণ থাকতে পারছি না। তাদের দুই পাশে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।’

ওই সীমান্তের আরেক বাসিন্দা বদর উদ্দিন বলেন, ‘শূন্যরেখায় আটকে থাকা ব্যক্তিরা চিৎকার করে বলছেন যে তারা বাড়িতে ফিরতে চান। প্রচণ্ড রোদে শিশুদের বেশি কষ্ট হচ্ছে।’

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার ভোর ৬টার দিকে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তপথে নারী ও শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের বাধায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিএসএফ সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে শিশু ও নারীসহ ছয় ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিরা কাঁটাতারের এপারে শূন্যরেখার কাছে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নেয়নি।

তিনি আরও জানান, এই পুশ ইন চেষ্টার পর রোববার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। বৈঠকে সীমান্তে জড়ো করা ব্যক্তিদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেছে বিএসএফ।

সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, পুনরায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্তে জনবল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় লোকজন বিজিবিকে সহায়তা করছেন। সীমান্তে জড়ো করা নারী ও শিশুসহ অন্যরা আগের স্থানেই অবস্থান করছেন। বিএসএফ তাদের ঠেলে পাঠিয়েছে, আর বিজিবি তাদের আসতে দেয়নি। যতক্ষণ পর্যন্ত পতাকা বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সমাধান না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না।’

Most Popular