Saturday, October 3, 2026
Homeবাংলাদেশসেপ্টেম্বরে ২৩৬ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার: এইচআরএসএস

সেপ্টেম্বরে ২৩৬ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার: এইচআরএসএস

সেপ্টেম্বরে ২৩৬ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৯ জনকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭ জন শিশু ও কিশোরী।

আজ শনিবার মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং নিজস্ব তথ্যানুসন্ধানের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এইচআরএসএস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে ১৩ নারী ও কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া ২৫ শিশুসহ ৪৯ নারী ও কিশোরীকে যৌন নির্যাতন করা হয়। ধর্ষণের পর ৫ নারী ও কিশোরীকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন শিশু ও কিশোরী। ধর্ষণের পর এক নারী আত্মহত্যা করেছেন।

এইচআরএসএস জানায়, যৌতুকের ঘটনায় ছয় নারী ও কিশোরীর মৃত্যু এবং চারজন আহত হয়েছেন। এছাড়া একজন আত্মহত্যা করেছেন। একই সময়ে পারিবারিক সহিংসতায় ৪৩ নারীর মৃত্যু, ২৭ জন আহত ও ২৬ জন আত্মহত্যা করেছেন।

মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে ৬৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় চারজন নিহত এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৫২৭ জনের বেশি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।

নিহত চারজনের মধ্যে দুজন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী, একজন বিএনপির কর্মী ও একজন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী।

এইচআরএসএস জানায়, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতা ও হতাহতের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। আগস্টে ৭০টি ঘটনায় সাতজন নিহত ও ৫৩৬ জন আহত হয়েছিলেন।

সেপ্টেম্বরে ৬৮টি ঘটনার মধ্যে ৩৫টি ছিল বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে। এসব ঘটনায় অন্তত ৩৪০ জন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন।

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সাতটি সংঘর্ষে ৬১ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ছয়টি সংঘর্ষে একজন নিহত ও ৪২ জন আহত হয়েছেন।

জামায়াত ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই সংঘর্ষে একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে তিনটি সংঘর্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন।

মব সহিংসতা ও পিটুনির ঘটনায়ও উদ্বেগ জানিয়েছে এইচআরএসএস। তারা বলেছে, সেপ্টেম্বরে এ ধরনের ৩৫টি ঘটনায় নয়জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন।

চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, তর্ক-বিতর্ক, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদন আরও বলা হয়, সেপ্টেম্বরে ২০টি ঘটনায় ৩৫ সাংবাদিক হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় ১৬ সাংবাদিক আহত, ১২ জন হামলার শিকার ও তিনজন হুমকির মুখে পড়েছেন। সাইবার নিরাপত্তা আইনে একজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। এছাড়া চারটি মামলায় তিন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সেপ্টেম্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ছয়টি সভা ও সমাবেশে বাধা দিয়েছে। এতে ৪৭ জন আহত হয়েছেন

মাসজুড়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনাও অব্যাহত ছিল। ১২টি ঘটনায় অন্তত ১৪ জনকে আটক এবং ১২টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সারা দেশের কারাগারে ২১ বন্দি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন দণ্ডপ্রাপ্ত ও ১০ জন বিচারাধীন ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং নির্যাতনের অভিযোগ থাকা ঘটনায় আরও তিনজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে একজন নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য দুজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মারা গেছেন।

এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হামলার তিন ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। এছাড়া একজনকে আটক করা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ১০০ জনের বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে ২৭১ শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭৮ জন মারা গেছে ও ১৯৩ জন শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। সাত শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কিছু সূচকে উন্নতি হলেও কয়েকটি ক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে।

তিনি বলেন, মাসজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা, ক্যাম্পাসে সহিংসতা, গণপিটুনি ও মব সহিংসতা, কারাগারে মৃত্যু, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্তে সহিংসতা এবং শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

Most Popular