আবুল মনসুর আহমদকে পড়লে সমাজে জাগরণ ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বুধবার সকালে আবুল মনসুর আহমদ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘আবুল মনসুর আহমদকে কেন জানা জরুরি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ মন্তব্য করেন।
প্রখ্যাত সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিক আবুল মনসুর আহমদের ১২৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তারা আরও বলেন, তার লেখা মানুষকে সত্য বলতে, প্রশ্ন করতে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শেখায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটন। প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আ জ ম রেজাউল করিম খান। প্রধান অতিথি ছিলেন আবুল মনসুর আহমদের ছেলে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসনাত জাহান খান ও একেএম শাকির আহমেদ। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, লেখক কাজল রশীদ শাহীন ও অধ্যাপক চেংগীশ খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম।
অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আবুল মনসুর আহমদকে স্মরণ করার সবচেয়ে ভালো উপায় তার লেখা পড়া এবং তিনি যে প্রশ্নগুলো আমাদের সামনে রেখে গেছেন, সেগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবা। সময়-সমাজ বদলেছে, কিন্তু মানুষের অনেক সংকট এখনো বদলায়নি। সেই জায়গাতেই আবুল মনসুর আহমদ আজও আমাদের সমকালীন।’
চেংগীশ খান বলেন, ‘আজকের সমাজে আবুল মনসুর আহমদকে পড়লে ‘বিপদ’ হতে পারে। কারণ তিনি সত্য উচ্চারণ করতে শেখান এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করার প্রেরণা দেন। তার লেখা মানুষকে প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে প্রশ্ন করতে শেখায়।’
মাহফুজ আনাম বলেন, ‘শত শত শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসে শিক্ষকদের আলোয় আলোকিত হতে। কিন্তু সময় বদলে গেছে। এই প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের আলোকিত করতে হলে শিক্ষকদেরও নিজেদের পরিবর্তন ও উন্নয়ন করতে হবে। পৃথিবী অনেক বদলে গেছে। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হলে সময়ের জ্ঞান, ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিকড় ও আত্মপরিচয়ের অন্বেষণে এগোতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশপ্রেম মানে শুধু দেশকে ভালোবাসা নয়, দেশ গঠনে ভূমিকা রাখা। এক্ষেত্রে আবুল মনসুর আহমদের জীবন ও কর্ম আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। তার বই পড়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী হতে হবে। তার বই পড়া মানেই তাকে শ্রদ্ধা করা।’
ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, ‘মেয়েদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা ছাড়া সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না। নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
ত্রিশালের একটি সড়ক আবুল মনসুর আহমদের নামে করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবুল মনসুর আহমদ ও আবুল কালাম শামসুদ্দিনের নামে হলের নামকরণ বিষয়েও ভূমিকা রাখবেন তিনি।
