Wednesday, September 30, 2026
Homeবাংলাদেশকৃষক কার্ডের পাইলট কার্যক্রম উদ্বোধন বৃহস্পতিবার

কৃষক কার্ডের পাইলট কার্যক্রম উদ্বোধন বৃহস্পতিবার

বৃহস্পতিবার থেকে কৃষক কার্ড কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম শুরু করবে সরকার। এ পর্যায়ে এক লাখের বেশি জমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মধ্যে বহুল আলোচিত এই কার্ড বিতরণ করা হবে।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বুধবার জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে কৃষকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ ও সাশ্রয়ী সেচসেবা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

অনুষ্ঠানে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডও বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সম্মানীও দেওয়া হবে।

পাইলট কর্মসূচির আওতায় ফেনীর ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড পাবেন। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই পাইলট কার্যক্রম চলবে। আরও ১৩ জেলার কৃষকদের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাকি কার্ড বিতরণ করা হবে।

প্রতিটি কৃষক কার্ডে কৃষি উপকরণ কেনার জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকার সুবিধা থাকবে।

প্রি-পাইলট পর্যায় শেষ হওয়ার পর গত পহেলা বৈশাখ থেকে সরকার কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করে। বিএনপি সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল এই কর্মসূচি।

এ পর্যন্ত ১০ জেলার ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষক কার্ড পেয়েছেন। সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার আওতায় সারাদেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পাইলট পর্যায়ে ৪৩ লাখ কৃষককে কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ১৮ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি কৃষকের তথ্য সংগ্রহ শেষ হয়েছে।

বাকি কৃষকদের ধাপে ধাপে কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

কৃষক কার্ড কর্মসূচি তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে—প্রি-পাইলট, পাইলট এবং সারাদেশে সম্প্রসারণ। কর্মসূচির আওতায় জমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা কৃষক কার্ডের ১০টি সেবার মধ্যে পাইলট পর্যায়ে সাতটি চালু করা হবে। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে-ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রণোদনা বিতরণ, সার-বীজ ও কীটনাশক পাওয়ার সুবিধা, মৎস্য, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর খাদ্য, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং সেচ সহায়তা।

কৃষক কার্ডধারীরা কাছাকাছি ডিলার, বিক্রয়কেন্দ্র বা সেবাকেন্দ্র থেকে নির্ধারিত পণ্য ও সেবা কিনতে বা গ্রহণ করতে পারবেন।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, ‘কৃষকদের কৃষি উপকরণ পাওয়ার সুযোগ এবং কৃষি উন্নয়নে সরকারি সহায়তা আরও সহজলভ্য করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।’

Most Popular