স্টাইলিশ ও রোমান্টিক নায়ক হিসেবেই জাফর ইকবালকে বেশি মনে রেখেছেন দর্শক। তবে অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতের সঙ্গেও তার ছিল গভীর সম্পর্ক। গিটার বাজিয়ে গান গাইতেন, ব্যান্ডও করেছিলেন। আধুনিক গানের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি।
১৯৬৬ সালে বন্ধুদের নিয়ে ‘রোলিং স্টোন’ ব্যান্ড গড়ে তোলেন জাফর ইকবাল। সংগীতের প্রতি তার আগ্রহ অবশ্য আরও আগে থেকেই। বড় বোন কণ্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লাহ এবং বড় ভাই সংগীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজের কাছ থেকে ছোটবেলা থেকেই পেয়েছেন সংগীতের আবহ। বাড়িতে গানের আসর বসলে বোনের সঙ্গে তবলা বাজাতেন। গিটার বাজিয়ে নিজেও গান করতেন।
এলভিস প্রিসলি ছিলেন জাফর ইকবালের প্রিয় শিল্পীদের একজন। তার গান ও গায়কী জাফর ইকবালকে প্রভাবিত করেছিল।
১৯৬৯ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আপন পর’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় জাফর ইকবালের। এতে তার নায়িকা ছিলেন কবরী।
চলচ্চিত্রে আসার প্রায় নয় বছর পর ১৯৭৮ সালে প্রথম প্লেব্যাক করেন তিনি। দারশিকো পরিচালিত ‘ফকির মজনু শাহ’ সিনেমায় রুনা লায়লার সঙ্গে গেয়েছিলেন ‘প্রেমের আগুনে জ্বলে গেলাম সজনী গো’। গানটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার এবং সুরকার আলাউদ্দীন আলী। চিত্রায়ণে ছিলেন জাফর ইকবাল ও ববিতা।
এর ছয় বছর পর ১৯৮৪ সালে নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত ‘বদনাম’ সিনেমায় আবার প্লেব্যাক করেন জাফর ইকবাল। ‘হয় যদি বদনাম হোক, আরও আমি তো এখন আর নই কারো’ গানটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার এবং সুরকার আনোয়ার পারভেজ। গানটির চিত্রায়ণে ছিলেন রাজ্জাক।
এই দুটি গান ছাড়া চলচ্চিত্রে জাফর ইকবালের আর প্লেব্যাকের তথ্য তেমনভাবে পাওয়া যায় না।
আধুনিক গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। তার গাওয়া গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী হয়ে কারো ঘরনি’ এবং ‘এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কি আছে’। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় গানটি পরিবেশন করেছিলেন তিনি। পরে গানটি রফিকুল আলমও গেয়েছেন।
আশির দশকে ‘কেন তুমি কাঁদালে’ নামে তার একটি অডিও অ্যালবামও প্রকাশিত হয়।
অভিনয়ে জাফর ইকবালের জনপ্রিয়তা আসে সত্তরের দশকে। ‘সূর্য সংগ্রাম’ সিনেমায় ববিতার বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মাস্তান’ সিনেমার মাধ্যমে ড্যাশিং নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। পরে ‘নয়নের আলো’ তাকে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে আরও জনপ্রিয় করে।
প্রায় ১৫০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জাফর ইকবাল। উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘অবুঝ হৃদয়’, ‘ভাই বন্ধু’, ‘অবদান’, ‘প্রেমিক’, ‘সাধারণ মেয়ে’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘দিনের পর দিন’, ‘বেদ্বীন’, ‘অংশীদার’, ‘মেঘ বিজলী বাদল’, ‘নয়নের আলো’, ‘সাত রাজার ধন’, ‘আশীর্বাদ’, ‘অপমান’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘গৃহলক্ষ্মী’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘নবাব’, ‘প্রতিরোধ’, ‘ফুলের মালা’, ‘সিআইডি’, ‘মর্যাদা’, ‘সন্ধি’, ‘বন্ধু আমার’ ও ‘উসিলা’।
১৯৫০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন জাফর ইকবাল। আজ তার জন্মদিন। ১৯৯২ সালের ৮ জানুয়ারি মাত্র ৪১ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
নায়ক হিসেবে জাফর ইকবালের পরিচিতি ছিল আলাদা। অভিনয়ের পাশাপাশি গানও ছিল তার শিল্পীজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চলচ্চিত্রে তার প্লেব্যাকের সংখ্যা বেশি নয়, তবে যে কটি গান গেয়েছেন, সেগুলো তার বহুমুখী শিল্পীসত্তার একটি দিক তুলে ধরেছে।
