Thursday, September 24, 2026
Homeবাংলাদেশমশা নিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: সিন্ডিকেট-চাঁদাবাজি-ঘুষ লেনেদেনের অভিযোগে ডিএসসিসিতে অভিযান

মশা নিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: সিন্ডিকেট-চাঁদাবাজি-ঘুষ লেনেদেনের অভিযোগে ডিএসসিসিতে অভিযান

মশা নিধন ও গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ বুধবার দুদকের পাঁচ সদস্যের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযোগের মধ্যে আছে—মশা নিধনের কীটনাশকের নামে কেরোসিন সরবরাহ, ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহে চাঁদাবাজি ও অবৈধ নিয়ন্ত্রণ।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধেই এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, কমিশনের সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন এবং উপসহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো শুরু হয়। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

দুদকে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, এ দুই খাতে একটি ঠিকাদারি সিন্ডিকেট, গবেষণাগারের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রভাবশালীরা যোগসাজশ করে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের অভিযোগে ২০১১ সালে এবং পরে ২০১৯ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ‘দ্য লিমিট অ্যাগ্রো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে।

ওই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে নাম আসা মিজানুর রহমান পরে ব্যবসার নাম ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় পরিবর্তন করে ‘ফরওয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটি ডিএসসিসিতে মশা নিধনের রাসায়নিক সরবরাহ শুরু করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ মতে, বিগত দুই বছরে ডিএসসিসিতে কীটনাশক সরবরাহের জন্য এই সিন্ডিকেটকে ৪৮ কোটি টাকার তিনটি কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও পরিদর্শনের সময় সঠিক কীটনাশক দেখানো হলেও, ফিল্ডে ফগিংয়ের সময় মূলত কেরোসিন স্প্রে করা হয়, যার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়া মশক নিধন বিভাগের স্টোরকিপার ও হিসাব শাখার কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের তথ্যও রয়েছে অভিযোগে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহে চাঁদাবাজি ও অবৈধ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও পেয়েছে দুদক।

ডিএসসিসির নিয়ম অনুযায়ী, গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ফ্ল্যাটপ্রতি সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

তবে অভিযোগে বলা হয়, ধানমন্ডি, আজিমপুর, কাঁঠালবাগান, কায়েতটুলী ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ১২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

এমনকি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, প্রতি বছর ডিএসসিসি এলাকায় কোটি কোটি টাকার অবৈধ বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবসা চালানো হচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিপুল পরিমাণ জামানত জমা দিয়ে দরপত্রের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ পাওয়া বৈধ ঠিকাদারদের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হুমকি, মারধর এবং চুক্তি থেকে বের হতে বাধ্য করা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য সংগ্রহে দুদক আজকের অভিযান পরিচালনা করেছে।

Most Popular