২০২৭ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে মোটে ছয়টি গোল করতে পেরেছিল বাংলাদেশ ফুটবল দল। এর মধ্যে তিনটিই এসেছিল হংকংয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠের এক ম্যাচে। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের আগমনে দল অনেক শক্তিশালী হয়েছে ঠিকই, কিন্তু নিয়মিত গোল করার মতো নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের অভাব এখনো বড় সমস্যা হয়েই রয়ে গেছে।
দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বাংলাদেশ ফুটবল লিগ কিংবা ফেডারেশন কাপ, কোথাও এবার কোনো স্থানীয় ফরোয়ার্ড আলাদা করে আলো ছড়াতে পারেননি। এমন বাস্তবতায় ২২ বছর বয়সী আমির আলীর উত্থান অন্তত নতুন সম্ভাবনার আভাস দিচ্ছে।
গোপালগঞ্জের এই তরুণ ফরোয়ার্ড সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে (বিসিএল) হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। শুকতারা যুব সংসদের হয়ে ১৫ ম্যাচে করেছেন ১২ গোল। এর মধ্যে দ্বিতীয় স্তরের এই লিগের শেষ রাউন্ডে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে ছিল একটি হ্যাটট্রিকও।
আমির দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গত মৌসুমে আমি মাত্র পাঁচটা গোল করেছিলাম। তাই এবার শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া।’
এখন তার লক্ষ্য আরও বড়, বাংলাদেশ ফুটবল লিগে জায়গা করে নেওয়া, এরপর জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়া।
আমির বলেন, ‘আমি জানি প্রতিযোগিতা খুব কঠিন, বিশেষ করে প্রবাসী খেলোয়াড়রা আসার পর। আমাকে ফিনিশিং আরও ভালো করতে হবে। কারণ ফিনিশিংটা অনেক বাংলাদেশি ফরোয়ার্ডেরই সাধারণ সমস্যা।’
তবে বিসিএলের পারফরম্যান্স নিয়ে বরাবরই কিছু প্রশ্ন থাকে। লিগটিকে ঘিরে প্রায়ই বেটিং, স্পট ফিক্সিং ও ম্যাচ কারসাজির অভিযোগ ওঠে। এবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু গোলের সময় ডিফেন্ডারদের সন্দেহজনক আচরণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যদিও আমির বলছেন, তাদের দল এসব থেকে দূরেই ছিল। তার ভাষায়, ‘অন্য দলগুলোর মধ্যে কী হচ্ছিল, সেটা আমরা আসলে জানতাম না।’
শুকতারা শেষ পর্যন্ত অল্পের জন্য প্রিমিয়ার লিগে উঠতে পারেনি। তবু আমিরের মতে, এবারের বিসিএল ছিল ‘খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’। তার বিশ্বাস, ‘ভালো মাঠে ম্যাচ হওয়ায় ফুটবলের মানও আগের চেয়ে ভালো ছিল।’
আমিরের ফুটবল যাত্রা শুরু গোপালগঞ্জের মকসেদপুরে। স্থানীয় বড় ভাইদের খেলা দেখে আর এক স্কুলশিক্ষকের অনুপ্রেরণায় ফুটবলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। পরে জেলা দলের হয়ে খেলার পর ঢাকায় এসে খেলেছেন উত্তরা এফসি, কাওরান বাজার প্রগতি সংসদ ও বাংলাদেশ পুলিশ এফসিতে।
পুলিশ এফসিতে রোমানিয়ান কোচ অ্যারিস্টিকা চিওবার অধীনে কাটানো দুই বছর তার ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলেছে। আমির বলেন, ‘তিনি আমাকে বলেছিলেন, একদিন আমি বড় খেলোয়াড় হতে পারব।’
আমির সত্যিই একদিন বড় মাপের খেলোয়াড় হয়ে উঠবেন কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে নির্ভরযোগ্য স্থানীয় গোলদাতার খোঁজে থাকা বাংলাদেশের জন্য, একজন ভরসাযোগ্য ফরোয়ার্ডের উঠে আসাটাও হতে পারে বড় স্বস্তির খবর।
