কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটির বিশেষ সংস্করণ চালু করেছে ওপেনএআই। ‘চ্যাটজিপিটি ফর টিনস’ নামে নতুন এই সংস্করণে থাকছে বয়স উপযোগী নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের সুবিধা।
এছাড়া, কিশোররা যাতে স্কুলের পড়াশোনা বা বাড়ির কাজে ফাঁকি দেওয়ার জন্য প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে না পারে, তা ঠেকানোর জন্য এতে বিশেষ কিছু সরঞ্জাম রাখা হয়েছে।
প্রায় তিন বছর আগে চালু হওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই চ্যাটবটটিতে এসব সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। এতদিন পর সেবাটিতে নতুন সংস্করণ আনা হলো।
নতুন সংস্করণে ‘স্টাডি মুড’ নামে একটি ফিচার রয়েছে। এতে কিশোর বয়সী ব্যবহারকারীদের কোনো প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে দিকনির্দেশনামূলক ও ধাপে ধাপে সহায়তা দেবে চ্যাটজিপিটি, যাতে তারা কোর্সের বিষয়বস্তু বুঝতে পারে।
সিস্টেম যদি বুঝতে পারে যে, কোনো কিশোর শেখার পরিবর্তে চ্যাটবট ব্যবহার করে বাড়ির কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে, তখন তাকে হোমওয়ার্ক রিমাইন্ডার দেখানো হবে এবং স্টাডি মুড ব্যবহারে উৎসাহিত করবে।
চ্যাটজিপিটি ফর টিনস-এ কুইজ, শেখার বিষয়গুলোর দৃশ্যায়ন ও অভিভাবকদের জন্য বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ সুবিধাও রয়েছে। এর ফলে অভিভাবকরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, ডিফল্টভাবে কখন স্টাডি মুড চালু থাকবে। পাশাপাশি নিরাপত্তাসংক্রান্ত নোটিফিকেশন পাওয়ার সুবিধাও রয়েছে।
বয়স উপযোগী কনটেন্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা এতে চালুই থাকবে। উদ্দেশ্য হলো, কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর কিংবা তাদের বয়স ও মানসিক বিকাশের জন্য অনুপযুক্ত কনটেন্টের সংস্পর্শ কমানো।
ওপেনএআই জানিয়েছে, এসব সুরক্ষা ব্যবস্থা শিশু-কিশোরদের বিকাশসংক্রান্ত বিজ্ঞান এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
এআই কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে এর সমালোচনামূলক মূল্যায়ন করতে হয়, তরুণ ব্যবহারকারীদের তা বুঝতে সহায়তা করার জন্য প্রতিষ্ঠানটি কোডএআই-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের ঘোষণাও দিয়েছে।
তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চ্যাটজিপিটির প্রভাব নিয়ে ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ার পর এই সেবা চালু করা হলো। এসব মামলার মধ্যে কিশোরদের আত্মহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাও রয়েছে।
২০২২ সালের শেষ দিকে চালু হয় চ্যাটজিপিটি। কিশোরদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর আগেই এর সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা কয়েক কোটিতে পৌঁছে যায়।
