জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার দুটি পৃথক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তার কারামুক্তির পথ সুগম হলো।
কেন তাকে এসব মামলায় স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে পৃথক দুটি রুলও জারি করেছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচারপতি খায়রুলের করা পৃথক দুটি জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
খায়রুল হকের আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, একটি মামলা যাত্রাবাড়ী থানায় আরিফ নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে এবং অন্যটি আদাবর থানায় রুবেল নামে একজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, হাইকোর্টের এই জামিন আদেশের পর কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে খায়রুল হকের মুক্তি পেতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
জামিন আবেদনের শুনানিতে খায়রুল হকের পক্ষে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও জাহাঙ্গীর হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময়কার হত্যাসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে ২৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই রায়গুলো বহাল রাখেন, যার মাধ্যমে তাকে অন্য পাঁচটি মামলায় জামিন দেওয়া হয়েছিল।
গত ২৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অন্য পাঁচটি মামলায় তাকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিনের আদেশ বহাল রাখেন।
