Wednesday, October 7, 2026
Homeঅর্থনীতি২৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে বেক্সিমকোর বন্ধ কারখানা চালুর পরিকল্পনা

২৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে বেক্সিমকোর বন্ধ কারখানা চালুর পরিকল্পনা

ব্রিটিশ ও চীনা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি কারখানা নতুন করে চালুর পরিকল্পনা করছে বেক্সিমকো গ্রুপ। লিজিং বা ইজারা পদ্ধতিতে কারখানা চালুর জন্য সরকারের অনুমোদন চেয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই শিল্পগোষ্ঠী।

বেক্সিমকো গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত ইজারা ব্যবস্থায় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান চার্টার এইচসিপি লিমিটেড ও চীনা কোম্পানি বেস্টিং লিমিটেড গাজীপুরে বেক্সিমকোর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে প্রিফিক্স ফ্যাশনস লিমিটেড আংশিকভাবে চালু করতে ২৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে ফোনালাপে বেক্সিমকোর টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল বিভাগের জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক খালিদ শাহরিয়ার এবং দুই বিনিয়োগকারীর সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত রিভাইভাল গ্লোবালের সিইও হুদা মোহাম্মদ ফয়সাল এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

খালিদ জানান, প্রস্তাবিত ব্যবসায়ী মডেল নিয়ে আলোচনার জন্য বেক্সিমকোর কর্মকর্তারা আগামী ১১ অক্টোবর সরকারি বিনিয়োগ সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

তিনি বলেন, অনুমোদন পেলে আগামী বছরের এপ্রিলে কারখানাটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারখানায় মূলত রপ্তানিযোগ্য জ্যাকেট তৈরি করা হবে। মোট উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ হবে জ্যাকেট এবং বাকি ১০ শতাংশ অন্যান্য পণ্য।

খালিদের মতে, গাজীপুরের কাশিমপুরে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ভেতরের ১৬টি টেক্সটাইল ও পোশাক কারখানার অন্যতম ‘প্রিফিক্স ফ্যাশনস’ প্রথম থেকেই চীনা কোম্পানি বেস্টিংয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে।

কর্মকর্তারা জানান, পরিকল্পনা সফল হলে কারখানাটিতে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে।

খালিদ ও ফয়সাল জানান, প্রস্তাবিত মডেলের অধীনে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বেক্সিমকো গ্রুপের সঙ্গে পাঁচ বছরের একটি চুক্তি করবেন। যেসব ব্যাংক কারখানার সম্পদের ওপর লিয়েন বা ঋণের বিপরীতে জামানত আটকে রেখেছে, কারখানার রপ্তানি আয় থেকে সরাসরি তাদের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হবে।

এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যেন বেক্সিমকোর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা না থাকে। ব্যাংকগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে রপ্তানি রশিদ থেকে নির্ধারিত অর্থ কেটে নেবে।

বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, কারখানাটি ২-৩ বছরের মধ্যে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক, বিশেষ করে জ্যাকেট রপ্তানি করতে সক্ষম হবে।

খুচরা বিক্রেতা ও ব্র্যান্ড হিসেবে পোশাকের আন্তর্জাতিক বাজারে বেস্টিংয়ের অবস্থান কার্যাদেশ বা অর্ডার পেতে সহায়তা করবে বলে জানান বেক্সিমকোর জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক খালিদ।

তিনি বলেন, ‘সরকার এ পরিকল্পনা অনুমোদন করলে পরিবেশ, সামাজিক ও আইনি বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে কারখানাটি চালু করবে বেক্সিমকো।’

প্রস্তাবিত ইজারা বা মুনাফা ভাগাভাগি মডেলটির জন্য ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

এ মডেল কার্যকর প্রমাণিত হলে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে বন্ধ থাকা আরও ১৫টি কারখানাও পর্যায়ক্রমে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে গ্রুপটির।

বেক্সিমকোর কর্মকর্তারা মনে করছেন, কারখানাগুলো বন্ধের পর চাকরি হারানো ৩০ হাজারের বেশি শ্রমিকের জন্য এই পদ্ধতিতে ধীরে ধীরে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সম্ভব।

জাপান-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগ ‘রিভাইভাল গ্রুপ’ বেশ কিছুদিন ধরেই বেক্সিমকোর বন্ধ থাকা টেক্সটাইল কারখানাগুলো চালুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি এর আগেও বেক্সিমকোর সামগ্রিক পোশাক উৎপাদন কার্যক্রম চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইকোমিলির সঙ্গে ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ইজারা চুক্তির প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল।

বর্তমানে বেক্সিমকোর কাঁধে বিশাল ঋণের বোঝা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ৩২টি কারখানার বিপরীতে ঋণ রয়েছে ২৯ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

শুধু জনতা ব্যাংকই বেক্সিমকোর কাছে পাবে ২৩ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকোর শিল্প-কারখানাগুলো ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চরম বিশৃঙ্খলার মুখে পড়ে। সেসময় গ্রুপটির কিছু কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

২০২৪ সালের আগস্টে সদরঘাট দিয়ে ঢাকা থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় গ্রেপ্তার হন সালমান। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি।

পরে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের মার্চে বেক্সিমকোর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ১৬টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। তবে তার আগে শ্রমিকদের বকেয়া মেটাতে সরকার ৫২৬ কোটি টাকার সহায়তা দিয়েছিল।

যোগাযোগ করা হলে ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, রিভাইভাল গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর সরকার বেক্সিমকোর এ প্রস্তাব নিয়ে চূড়ান্ত দিক-নির্দেশনা দিতে পারবে।

Most Popular