Thursday, October 1, 2026
Homeবাংলাদেশ১৫ বছর ধরে বন্ধ কারমাইকেল কলেজের ২ ছাত্রাবাস, আবাসন সংকটে শিক্ষার্থীরা

১৫ বছর ধরে বন্ধ কারমাইকেল কলেজের ২ ছাত্রাবাস, আবাসন সংকটে শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে ১৫ বছর আগে বন্ধ করে দেওয়া হয় রংপুরের কারমাইকেল কলেজের চারটি হল। পরে ২০১৯ সালে দুটি ছাত্রাবাস খুলে দেওয়া হলেও বাকি দুটি এখনো বন্ধ। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় ভবন দুটির দশা এখন বেহাল। এ অবস্থায় কলেজটির শিক্ষার্থীরা ভুগছেন তীব্র আবাসন সংকটে।

কলেজটির শিক্ষকরা জানান, সংঘর্ষের জেরে ২০১১ সালের ২০ জুন চারটি ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ৮ বছর পর ২০১৯ সালে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে খুলে দেওয়া হয় গোবিন্দ লাল (জিএল) ও কাশিম বাজার ছাত্রাবাস। আর বন্ধ থেকে যায় কারমাইকেল মুসলিম ও এমএজি ওসমানী ছাত্রাবাস।

দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় ভবন দুটির অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যে বড় ধরনের সংস্কার ছাড়া শিক্ষার্থীদের সেখানে থাকার কোনো উপায় নেই। ছাত্রাবাস দুটির চারপাশ এখন আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ঢাকা। ভবনের দেয়াল থেকে খসে পড়েছে পলেস্তারা। স্যাঁতসেঁতে দেয়াল, ভেতরে-বাইরে জমেছে আবর্জনার স্তূপ।

কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কারমাইকেল কলেজে ছাত্রাবাস আছে মোট পাঁচটি। এগুলো হলো—গোবিন্দ লাল (জিএল), কাশিম বাজার, কারমাইকেল মুসলিম, এম এ জি ওসমানী ছাত্রাবাস এবং নতুন নির্মিত শহীদ আবু সাঈদ হল।

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে চারটি ছাত্রীনিবাস—বেগম রোকেয়া, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, তাপসী রাবেয়া এবং তারামন বিবি ছাত্রীনিবাস।

নয়টির মধ্যে চালু থাকা সাতটিতে বর্তমানে প্রায় ৯৫০ শিক্ষার্থী থাকেন। অথচ ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) এবং ২১টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে নিয়মিত-অনিয়মিত মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।

অর্থাৎ, কলেজের চার শতাংশেরও কম শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। বাকি প্রায় ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার রহমান কলেজপাড়া এলাকায় মেসে থাকছেন। তিনি জানান, মেসভাড়া ও খাবারসহ প্রতি মাসে তার প্রায় ৬ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এর সঙ্গে যাতায়াত ভাড়াও রয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টারকে শাহরিয়ার বলেন, ‘হলে সিট পেলে তিন হাজার টাকার মধ্যেই মাস চলে যেত। এখন বাড়তি খরচের কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

একই অবস্থা নারী শিক্ষার্থীদেরও। বাংলা বিভাগের ইয়াসমিন আরা বলেন, ‘মেসের পরিবেশ পড়াশোনার উপযোগী নয়। হোস্টেলে সিট পেলে অনেক সমস্যার সমাধান হতো।’

কলেজটির নতুন নির্মিত শহীদ আবু সাঈদ হল ছাড়া বাকিগুলোর দশাও জরাজীর্ণ বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

কাশিম বাজার ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী সিয়াম সরকার বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। কিন্তু মেসে থাকার খরচ অনেক বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই এখানে থাকছি।’

যোগাযোগ করা হলে কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল হোসেন মণ্ডল ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘হলগুলো সংস্কারের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ হলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দুটি ছাত্রাবাসও চালু করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য আরও একটি করে হল নির্মাণের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে পুরোনো হল সংস্কার, বন্ধ থাকা হল চালু এবং নতুন হল নির্মাণ করা এখন জরুরি।’

Most Popular