Friday, July 3, 2026
Homeবিদেশহরমুজে অননুমোদিত রুট ব্যবহার করলে ‘কঠোর ব্যবস্থার’ হুঁশিয়ারি ইরানের

হরমুজে অননুমোদিত রুট ব্যবহার করলে ‘কঠোর ব্যবস্থার’ হুঁশিয়ারি ইরানের

অননুমোদিত রুট ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করা জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পথে এই হুমকি নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা জানানোর পরদিনই ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর থেকে এ হুঁশিয়ারি এলো। আল জাজিরার খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নির্ধারিত পথ মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়া, নির্দিষ্ট রুট থেকে বিচ্যুত হওয়া কিংবা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌচলাচল বিধিমালা অমান্য করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এর ফলে নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তাও বিপন্ন হবে।

যদিও তেহরান এই হুঁশিয়ারির কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। তবে বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বাহরাইনে একটি নিরাপত্তা আলোচনার আয়োজন করেছিল, যেখানে আঞ্চলিক নেতারা ওই এলাকায় অবাধে জাহাজ চলাচলের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই কড়া বার্তা এলো।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বৃহস্পতিবার সেন্টকমের বিবৃতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের আলোচনা পারস্য উপসাগরের জন্য কোনো আইনি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গারিবাবাদি বলেন, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে হস্তক্ষেপের অবসান, মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার, দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নেওয়ার মাধ্যমে—আমেরিকার সামরিক ছত্রছায়ায় থেকে নয়।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হতো।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী শান্তিতে রূপান্তরের আলোচনায় এই প্রণালি বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকে ইরান এই প্রণালি দিয়ে জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর বিষয়ে একমত হয়েছিল। তা সত্ত্বেও, যে সমস্ত জাহাজ ইরানের উপকূলরেখার নিকটবর্তী তাদের পছন্দের রুট ব্যবহার করছে না, তেহরান বারবার সেই জাহাজগুলোকে আক্রমণের হুমকি দিচ্ছে।

মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর অন্তত ৪৯টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এসব ঘটনার অধিকাংশের জন্যই তেহরানকে দায়ী করা হয়েছে, যার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ও শনিবার যথাক্রমে সিঙ্গাপুর ও পানামার পতাকাবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাও রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত ১৭ জুন সমঝোতা স্মারকে সই করার পর থেকে এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত কিছুটা বাড়লেও, তা যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় অনেক কম। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করত, সেখানে বুধবার মাত্র ৪৫টি জাহাজ চলাচল করেছে (যা মঙ্গলবার ছিল ৩৪টি)।
 

Most Popular