Friday, July 3, 2026
Homeবিদেশজাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে গায়ে আগুন, তিব্বতপন্থী আন্দোলনকর্মীর মৃত্যু

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে গায়ে আগুন, তিব্বতপন্থী আন্দোলনকর্মীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে গায়ে আগুন দেওয়ার পর এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

এএফপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তিকে চীনের তিব্বতপন্থী আন্দোলনের কর্মী হিসেবে শনাক্ত করেছেন কয়েকজন অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন গণমাধ্যম, যদিও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেনি।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে তারা খবর পায় যে ফার্স্ট অ্যাভিনিউ ও ৪২তম স্ট্রিট এলাকায় এক ব্যক্তি নিজের গায়ে আগুন দিয়েছেন। পরে তাকে বেলভিউ হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে আত্মাহুতির কারণ সম্পর্কে পুলিশ কোনো তথ্য দেয়নি।

এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ও ভয়াবহ ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং মৃত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও তিব্বতপন্থী এক কর্মী দাবি করেছেন, নিহত ব্যক্তি তিব্বতের পক্ষে আন্দোলন করতেন। তবে তদন্তকারীরা এ দাবি নিশ্চিত করেননি।

ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বতের সভাপতি তেনচো গিয়াতসো নিহত ব্যক্তির নাম লোবগা রাংজেন বলে জানিয়েছেন।

এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘লোবগা তিব্বতের জন্য এক নিরলস কর্মী ছিলেন। তিব্বতে মানবাধিকার সংকট সম্পর্কে শান্তিপূর্ণভাবে সচেতনতা তৈরিতে তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।’

গিয়াতসোর ভাষ্য অনুযায়ী, রাংজেন চীনের নতুন ‘জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি উন্নয়ন আইন’-এর সমালোচনা করতেন। বেইজিং বলছে, আইনটির উদ্দেশ্য বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলা।

তবে বিদেশে অবস্থানরত অধিকারকর্মীদের দাবি, এ আইন উইঘুর ও তিব্বতিদের মতো জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার আরও খর্ব করবে। চীনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এসব জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য জাতিসংঘের কাছে পাঠানো অনুরোধের জবাব পাওয়া যায়নি।

চীন ১৯৫০ সালে তিব্বতে সেনা পাঠায়। বেইজিং তিব্বতকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বর্ণনা করে।

১৯৫৯ সালে চীনা বাহিনী তিব্বতের বিদ্রোহ দমন করার পর রাজধানী লাসা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন ৯০ বছর বয়সী তিব্বতি আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা।

দালাই লামার দীর্ঘদিনের ‘মিডল ওয়ে’ নীতিতে অহিংসা, সংলাপ ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে চীন-তিব্বত বিরোধের সমাধান এবং তিব্বতের স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানানো হয়েছে।

Most Popular