ইন্দোনেশিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিপিএনপিবি) মার্কিন পাইলট নিকোলাস এফ গোসেলিনকে হত্যার দাবি করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার ওয়েস্ট পাপুয়া প্রদেশে এই ঘটনা ঘটে।
বিদ্রোহীরা উড়োজাহাজটি গুলি করে ভূপাতিত করার পর পাইলটকে হত্যা করে এবং এতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তবে উড়োজাহাজের সাত যাত্রী অক্ষত আছেন বলে জানা গেছে।
বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবি, বেসামরিক পাইলটরা গোপনে ওই অঞ্চলে ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্যদের আনা নেওয়ার কাজে জড়িত। সংগঠনটি হুশিয়ারি দেয়, নিকোলাসের মৃত্যু ‘একটি বার্তা’।
আজ শুক্রবার পাপুয়ার সামরিক মুখপাত্র উইরিয়া আরতাদিগুনা নিশ্চিত করেছেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ওই উড়োজাহাজে হামলার জন্য দায়ী। তিনি আরও জানান, নিহত পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সামরিক বাহিনী হামলাকারীদের খুঁজছে।
উড়োজাহাজের সাত যাত্রী নিরাপদে আছেন এবং তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
কর্মকর্তারা এর আগে জানান, যাত্রীদের সবাই পাপুয়ার বাসিন্দা।
টিপিএনপিবি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে বিদ্রোহীদের হাতে বন্দুক ও কুড়াল দেখা যায়। তারা স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ‘মর্নিং স্টার’ পতাকা উড়িয়ে হামলার বিষয়ে ঘোষণা দেয়।
পিটি এএমএ নামের উড়োজাহাজ সংস্থা ওই ফ্লাইটটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই উড়োজাহাজটি পাপুয়ার দুর্গম গ্রামগুলোতে খাবার, জ্বালানি ও চিঠি আনা নেওয়া করতো।
এই হামলার বিষয়ে পিটি এএমএ কোনো মন্তব্য করেনি।
দীর্ঘদিন ধরে ইন্দোনেশিয়ার ওয়েস্ট পাপুয়া প্রদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সঙ্গে সরকারের সংঘর্ষ চলছে। এই প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ প্রদেশের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে এই সশস্ত্র সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য জাকার্তায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে রয়টার্স। তবে এখনো কোনো জবাব আসেনি।
এক বিবৃতিতে টিপিএনপিবির মুখপাত্র সেবি সামবোম বলেন, বিতর্কিত পাপুয়া অঞ্চলে সব ধরনের বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে তাদের সংগঠন। কারণ, বেসামরিক বিমানগুলো ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘টিপিএনপিবির চূড়ান্ত সতর্কতা অমান্য করায় আমরা তাৎক্ষণিকভাবে উড়োজাহাজের উদ্দেশে গুলি চালাই এবং আগুন ধরিয়ে দিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাপুয়ার ভূখণ্ডে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্য বা সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে সহায়তা করা যেকোনো বেসামরিক বিমানের ওপর গুলি চালাতে আমরা প্রস্তুত।’
তিনি সংঘাতের সমাধানে আলোচনায় বসার জন্যও ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ১৯৬৯ সালে পাপুয়া ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই এই সংঘাত শুরু হয়।
বিদ্রোহীদের দাবি, এ সংঘাতে বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
২০২৪ সালে একই গোষ্ঠীর হাতে ১৯ মাস বন্দি থাকার পর দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের এক পাইলটকে মুক্ত করা হয়। জাকার্তা ও ওয়েলিংটনের কর্মকর্তাদের উদ্যোগে ওই আলোচনা হয়েছিল।
এর এক মাস আগে একই গোষ্ঠীর বন্দুকধারীরা নিউজিল্যান্ডের আরেক পাইলট গ্লেন ম্যালকম কনিংকে হত্যা করে। একটি প্রত্যন্ত গ্রামে হেলিকপ্টার অবতরণের পরপরই তাকে গুলি করা হয়েছিল।
