পেসার শরিফুল ইসলামের ৪ উইকেট নেওয়ার পর দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার করলেন জোড়া হাফসেঞ্চুরি। তাদের কাঁধে ভর করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিয়মরক্ষার ম্যাচে সান্ত্বনার জয় পেল বাংলাদেশ।
শনিবার হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৭ উইকেটে জিতেছে টাইগাররা। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে অবশ্য আগেই স্বাগতিকদের কাছে সিরিজ হাতছাড়া করেছে তারা। তবে শেষ ম্যাচে একটি নিখুঁত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ইতিবাচকভাবে সিরিজ শেষ করেছে লাল-সবুজের দল।
টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সফরকারীরা জিম্বাবুয়েকে ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানে গুটিয়ে দেয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাঁহাতি পেসার শরিফুল ৪৪ রানে ৪ উইকেট নেন। এছাড়া, তাসকিন আহমেদ ও তানভীর ইসলাম দুটি করে শিকার ধরেন। ফলে বোলিং ইনিংসের অধিকাংশ সময় আধিপত্য বিস্তার করে বাংলাদেশ।
জবাবে তানজিদ ও সৌম্য উদ্বোধনী জুটিতে ১৫১ রানের দুর্দান্ত ভিত গড়ে সহজ জয়ের পথ তৈরি করেন, যা বিদেশের মাটিতে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটি। এই জুটি ম্যাচকে স্বাগতিকদের নাগালের বাইরে নিয়ে যায়। পাশাপাশি বাজে ফিল্ডিংয়ে জিম্বাবুয়ের দুর্দশা আরও বাড়ে। তারা বাংলাদেশের ইনিংসে মোট পাঁচটি ক্যাচ মিস করে।
৮২ বলে ছয়টি চার ও দুটি ছক্কায় ৬৯ রান করে তানাকা চিভাঙ্গার বলে সৌম্য আউট হলে ভাঙে জুটি। তানজিদ তার দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরির দিকেই এগোচ্ছিলেন। কিন্তু ১০১ বলে ৯৪ রান করে আর্নেস্ট মাসুকুর বলে লং-অনে ব্র্যাড ইভান্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তিনি তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও তিনটি ছক্কা। তিন বল পর তাওহীদ হৃদয়কে শূন্য রানে মাসুকুই আউট করলে বাংলাদেশের জয় কিছুটা বিলম্বিত হয়।
তবে নাজমুল হোসেন শান্ত ২৮ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থেকে ১৪ ওভার বাকি থাকতেই বাংলাদেশকে অনায়াসে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
এর আগে ১০৮ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়েকে চরম চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথম ঘণ্টায় শরিফুলের জোড়া আঘাতে বেন কারান (২) ও ক্রেইগ আরভিন (৫) দ্রুত বিদায় নেন। মাঝে ব্রায়ান বেনেটকে (৬) তাসকিন আউট করলে শুরুতেই হোঁচট খায় স্বাগতিকরা।
এরপর ইনোসেন্ট কাইয়া ও ওয়েসলি মাধেভেরে চতুর্থ উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বাংলাদেশ দ্রুত আরও তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এক প্রান্ত আগলে রেখে মাধেভেরে ৭৪ বলে ৭৫ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে, ব্র্যাড ইভান্স দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখে ৪৩ বলে ৫০ রান করেন, যা চলতি সিরিজে তার টানা দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি। এই দুজনের কল্যাণে জিম্বাবুয়ে ১৯৯ রানের একটি লড়াই করার মতো স্কোর গড়তে সক্ষম হয়।
বাংলাদেশ এর আগে সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডেতে যথাক্রমে ২৫ ও ১৩ রানে হেরেছিল। এই সিরিজ শেষে দুই দল এখন বুলাওয়েতে হতে যাওয়া তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দিকে মনোযোগ দেবে। প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী বুধবার।
