Wednesday, July 1, 2026
Homeবাংলাদেশভেঙে গেছে শতবর্ষী সেতুর পাটাতন, সোনাহাট স্থলবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ

ভেঙে গেছে শতবর্ষী সেতুর পাটাতন, সোনাহাট স্থলবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের শতবর্ষী লোহার সেতুর পাটাতন ভেঙে পড়ায় সোনাহাট স্থলবন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ আছে।
 

বুধবার সকাল ১০টা থেকে সেতুটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
 

যান চলাচল বন্ধ থাকায় সেতুর দুই পাশে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহন আটকা পড়েছে। এতে স্থলবন্দরগামী পণ্য পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটেছে।
 

কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সকালে একটি বালুবাহী ট্রাক সেতু পার হওয়ার সময় অতিরিক্ত ওজনের কারণে স্টিলের পাটাতন ভেঙে যায়। দুর্ঘটনা এড়াতে সঙ্গে সঙ্গে সেতুতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
 

তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের জন্য কারিগরি দল ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে। যত দ্রুত সম্ভব মেরামত শেষে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
 

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই যানবাহনের কারণে সেতুর পাটাতন প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ওভারলোড যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহুদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে সোনাহাট লোহার সেতু। বিভিন্ন স্থানে স্টিলের পাটাতনের লোহার প্লেট খুলে গেছে। বিকল্প সেতু চালু না হওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই শত শত ভারী যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করছে।
 

ট্রাকচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন পণ্যবোঝাই ট্রাক নিয়ে এই সেতু পার হতে হয়। সেতুর ওপর উঠলেই ভয় লাগে। প্রায় প্রতি মাসেই কোনো না কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।’
 

সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী আবু মোস্তফা বলেন, ‘সড়ক বিভাগ মেরামত করলেও বারবার সেতুর বিভিন্ন অংশ ভেঙে যায়। এতে সময়মতো পণ্য নিয়ে বন্দরে পৌঁছানো যায় না।’
 

স্থানীয় বাসিন্দা মেহেরুল আলম বলেন, পাথর ও বালুবোঝাই ট্রাক সেতুতে উঠলেই পুরো সেতু কাঁপতে থাকে। একই সময়ে দুটি যান চলাচল করতে না পারায় প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
 

সওজের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু নির্মিত হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে তা সংস্কার করা হয়। নির্মাণের সময় সেতুটির আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছিল ১০০ বছর। সেই মেয়াদ প্রায় চার দশক আগেই শেষ হয়েছে।
 

আট বছরেও শেষ হয়নি নতুন সেতুর নির্মাণ

ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো সেতুর বিকল্প হিসেবে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে দুধকুমার নদের ওপর ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে আট বছর হলেও এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ শতবর্ষী সেতুর ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে সোনাহাট স্থলবন্দরসহ এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন।
 

এ প্রসঙ্গে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নকশা, সরকার পরিবর্তনসহ নানা জটিলতার কারণে নতুন সেতুর কাজ এখনো শেষ হয়নি।’

Most Popular