ফ্রান্সে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
কঠোর পুলিশি নজরদারির মধ্যে আজও ফ্রান্সজুড়ে হাজারো বিক্ষোভকারী নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে জড়ো হন।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এদিন উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন শ্রমিক ইউনিয়ন ও শিক্ষকরা। বিক্ষোভের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষও হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে আন্দোলনে মূলত অংশ নিচ্ছে ফরাসি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা ‘লিসে’র শিক্ষার্থীরা। সাধারণত এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করে।
এ ধরনের শত শত উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ করে রেখেছে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং বাড়তে থাকা তাপমাত্রা সামাল দিতে না পারা ভবন নিয়ে তারা অভিযোগ জানাচ্ছে।
দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ে মিছিল করা হাজারো শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও ইউনিয়ন সদস্যের মধ্যে ১৮ বছর বয়সী ওসিয়ানও ছিলেন।
ওই কিশোরী বলে, ‘আমরা শুধু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা রক্ষা করতে চাই এবং শিক্ষার সুযোগ চাই। অনুপস্থিত শিক্ষকদের জায়গায় হয় কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি অথবা ‘অর্থহীন বিকল্প শিক্ষক’ দিয়ে তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, যা তাদের ভোগান্তির কারণ হয়েছে।
আরেক শিক্ষার্থী স্কুলে দীর্ঘ সময় কাটানোর অভিযোগ জানিয়ে একটি প্ল্যাকার্ড তুলে ধরে।
ফ্রান্সের নঁতে শহরে আজ সকালে হাজারো মানুষ একটি বিশাল ব্যানারের পেছনে মিছিল শুরু করেন। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘স্কুলে অর্থ নেই, দেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।’
দুপুরের শুরুতে মধ্য প্যারিস থেকে বড় একটি মিছিল বের হওয়ার কথা ছিল।
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ৮৬ হাজার মানুষ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন।
পরে প্যারিসের কর্মসূচিতে আরও ৪০ হাজার মানুষ যোগ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনেক বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু বিক্ষোভকারী আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন, বাসের যাত্রীছাউনি ভাঙচুর করেছেন কিংবা দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন।
এর জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার পাশাপাশি দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত গুলি ছুড়েছে।
কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ করেছেন শ্রমিক ইউনিয়ন, অধিকারকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।
সরকার জানিয়েছে, আন্দোলন শুরুর পর থেকে ২১৫ শিক্ষার্থী ও ৭১৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
সোমবার দাঙ্গা পুলিশের ছোড়া স্টান গ্রেনেডের আঘাতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের এক হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এছাড়া পুলিশ গ্রেনেড লঞ্চার থেকে গুলি ছোড়ার পর আরেক তরুণের কয়েকটি দাঁত ভেঙে যায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
এখন পর্যন্ত এই বিক্ষোভের জেরে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ৮৭ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর কার্যালয় জানিয়েছে, ৮৫ জন শিক্ষক ও শিক্ষা বিভাগের কর্মীও আহত হয়েছেন।
লেকর্নু জানান, তিনি শিক্ষক সংকট এবং জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন।
সরকারের অভিযোগ, কট্টর বামপন্থি দল ফ্রান্স আনবোদ (এলএফআই) এই আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে।
