নরসিংদীর রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে চেয়ারম্যানের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বিএনপির সাত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
রায়পুরা থানার পরিদর্শক টিএম ফরিদুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আহতরা হলেন—রায়পুরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন, রায়পুরা সরকারি কলেজের শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন আমু, উপজেলা যুবদলের সদস্য রাসেল ভূঁইয়া, উপজেলা জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম পলাশ, কাচারিকান্দি এলাকার রিমন আহম্মদ ও ফকিরেরচর এলাকার জাহাঙ্গীর আলম। তারা রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের সমর্থকেরা মানববন্ধন করেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে গেলে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেলে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের বাড়ির দিকে যান। সেখানে চেয়ারম্যানের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও কয়েকজনকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার জেরে রায়পুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভূঁইয়ার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আল মামুন ভূঁইয়া ডেইলি স্টারকে বলেন, চেয়ারম্যান ফারুককে আদালত কারাগারে পাঠানোর পর তার সমর্থকরা হাসিমপুর বাজারে মানববন্ধন করেন। এ সময় আমরা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ছিলাম। পরে খবর পাই আমার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়েছে।
রায়পুরা সদর থেকে নেতারা আসার পর তাদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জানতে চাইলে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা ডেইলি স্টারকে বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের বাড়ি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি পরিদর্শন করেছি। চেয়ারম্যানের বাড়ির গেট ও ভেতরে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি চেয়ারম্যানের বাড়ি অতিক্রম করার সময় লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে মোটরসাইকেল বহরে হামলা করা হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পরিদর্শক ফরিদুল আলম বলেন, ফারুক চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানোর পর তার সমর্থকেরা মানববন্ধনের চেষ্টা করেন। বিষয়টি কেন্দ্র করে বিএনপির নেতারা মামুদপুর এলাকায় গেলে হামলা করেন চেয়ারম্যানের সমর্থকরা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২৪ সালে দায়ের করা নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় গতকাল চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন হাজিরা দিতে গেলে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হালিমকে হারিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ফারুক হোসেন।
