সদ্য প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানকে বাংলাদেশের থিয়েটার অঙ্গনের একজন পরিপূর্ণ ও আধুনিক মনের মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নাট্যকার মাসুম রেজা।
তিনি বলেন, বাংলা নাটককে সমৃদ্ধ করতে আতাউর রহমানের অবদান ছিল ব্যাপক।
জনপ্রিয় নাট্যকার মাসুম রেজা দীর্ঘদিন ধরে মঞ্চ নাটকের সঙ্গে যুক্ত। নাট্যদল ‘দেশ নাটক’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি অসংখ্য নাটক লিখেছেন এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কারও পেয়েছেন।
সদ্য প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানকে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন এই নাট্যকার।
মাসুম রেজা বলেন, ‘আতাউর রহমান থিয়েটারের মানুষ। সত্যি কথা বলতে, থিয়েটারের পরিপূর্ণ মানুষ আতাউর রহমান। সংস্কৃতিমনা মানুষ। আধুনিক মনের মানুষ। এত সিনিয়র হওয়ার পরও অনেক আধুনিক একজন মানুষ ছিলেন আমার প্রিয় আতা ভাই।’
থিয়েটারে আতাউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘বাংলা নাটকে তার ব্যাপক অবদান। বাংলা নাটককে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন। সৃষ্টিশীল মানুষ ছিলেন। সবসময় সৃষ্টির নেশায় থাকতেন।’
ঢাকার মঞ্চে বহুল প্রশংসিত নাটক ‘গ্যালিলিও’-এর প্রসঙ্গ টেনে মাসুম রেজা বলেন, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন আতাউর রহমান। সে সময় জার্মান কালচারাল সেন্টারে নাটকটির প্রদর্শনী হতো এবং দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পায়।
তার ভাষায়, ‘আতা ভাইয়ের অন্যতম সফল কাজ এটি।’
‘রক্তকরবী’ নাটকের প্রসঙ্গেও কথা বলেন মাসুম রেজা। তিনি বলেন, ‘রক্তকরবী তিনি মঞ্চে নির্দেশনা দিয়েছেন। বড় একটি কাজ। আসলে বিশ্ববিখ্যাত ক্লাসিক নাটকগুলোকে আতা ভাই মঞ্চে নিয়ে এসেছেন পরম যত্ন করে। বাংলাদেশের মঞ্চে তার নাটকগুলো সবার ভালোবাসা পেয়েছে।’
আতাউর রহমানের সাহিত্যচর্চা ও বিশ্বনাট্যের প্রতি আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মাসুম রেজা বলেন, ‘যেকোনো কাজে রবীন্দ্রনাথের লেখা থেকে আতা ভাই উদ্ধৃতি দিতেন। রবীন্দ্রনাথের ভক্ত ছিলেন এবং প্রচুর পড়াশোনা করা একজন মানুষ ছিলেন। শেকসপিয়ার নিয়ে কাজ করেছেন। বিশ্বখ্যাত নাট্যকারদের প্রতি তার প্রবল শ্রদ্ধাবোধ ছিল। সেইসব কাজ মঞ্চে নিয়ে এসেছেন। কাজ করে তৃপ্তি পেয়েছেন।’
আতাউর রহমানের আড্ডাপ্রিয় স্বভাবের কথাও স্মরণ করেন এই নাট্যকার। তিনি বলেন, ‘ভীষণ আড্ডাপ্রিয় মানুষ ছিলেন তিনি। আড্ডা দিতে ভালোবাসতেন। আড্ডাটাকে জমিয়ে রাখতেন। আমি ও প্রয়াত খালেদ খান হয়তো আড্ডা দিচ্ছি, তিনি আসতেন এবং অনায়াসে আড্ডা জমিয়ে তুলতেন।’
শেষে মাসুম রেজা বলেন, ‘তার কথায় আনন্দ পেতাম। অনেক কিছু জানতাম। তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।’
