Saturday, October 3, 2026
Homeবাংলাদেশঢাকার কমিটিগুলো পুনর্গঠনে সতর্ক বিএনপি, নেতৃত্বে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণরাও বিবেচনায়

ঢাকার কমিটিগুলো পুনর্গঠনে সতর্ক বিএনপি, নেতৃত্বে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণরাও বিবেচনায়

ঢাকায় দলের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করা, শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের সামনে আনার লক্ষ্যে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিট পুনর্গঠনে সতর্ক অবস্থান নিতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্ব।

দলীয় নেতারা জানান, ঢাকাকে এখন সাংগঠনিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে বিএনপি। রাজধানীতে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয়ে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে শুধু বিতর্কমুক্ত ভাবমূর্তিই নয়, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, জনগ্রহণযোগ্যতা এবং তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কও গুরুত্ব পাবে।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সংরক্ষিত আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ পদত্যাগ করার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনায় তার কথিত সম্পৃক্ততার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর একদিন আগে ক্ষমতাসীন দল ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে। একইসঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ১৪ নেতাকে বহিষ্কারও করা হয়।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, এসব ঘটনার পর গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে কাদের রাখা হবে, সে বিষয়ে নেতৃত্ব আরও সতর্ক হয়েছে।

বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সাংগঠনিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা, রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনীতি শক্তিশালী করা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের বিকল্প নেই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিট সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারলে তৃণমূলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মহানগর উত্তর ইউনিটের দিকে নজর দিচ্ছে দলটি। শিগগিরই এ ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি বিরোধী দলে থাকার সময় যেসব নেতা ভূমিকা রেখেছেন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যাদের পারফরম্যান্স ভালো এবং জনগ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, নতুন নেতৃত্বের জন্য তাদের কয়েকজনকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দলের কঠিন সময়ে সক্রিয় থাকা এবং বড় ধরনের বিতর্ক এড়িয়ে চলা নেতারা গুরুত্বপূর্ণ পদে অগ্রাধিকার পেতে পারেন।

তবে দলীয় নেতারা বলছেন, শুধু ভালো ভাবমূর্তি থাকলেই নেতৃত্বে আসা যাবে না। ওয়ার্ড, থানা ও ইউনিট পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখা এবং প্রয়োজনের সময় সংগঠনের কর্মীদের সক্রিয় করার সক্ষমতাও থাকতে হবে।

এ কারণে অভিজ্ঞ সংগঠকদের পাশাপাশি সাবেক ছাত্র ও যুবনেতাদের মধ্যে তুলনামূলক তরুণদেরও বিবেচনায় রাখছে দলটি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ইউনিটের কমিটি নিয়েও পরিবর্তনের আলোচনা চলছে।

বিএনপি নেতারা জানান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিটে নেতৃত্বের ধরন এক রকম নাও হতে পারে। তবে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে কাজ করা এবং সংগঠনকে সক্রিয় রাখার মতো মৌলিক মানদণ্ড একই থাকবে।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আরও গতি এনেছে। দুই ইউনিটকেই সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ঘিরে দলীয় কার্যক্রম সমন্বয় করতে হবে। দলীয় নেতাদের মতে, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের সংগঠন দুর্বল বা বিভক্ত থাকলে শুধু জনপ্রিয় প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে জয় পাওয়া কঠিন হবে।

নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ বিরোধ কমানোর ওপর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যে গুরুত্ব দিয়েছে। জুলাইয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতাদের প্রতিটি এলাকায় একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য কাজ করতে বলেন।

নির্বাচন কমিশন এখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করেনি। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে ভোট শুরু হতে পারে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে বিএনপির কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি নতুন কমিটি গঠনের পর তৃণমূলের কর্মীদের সম্পৃক্ত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গিয়ে দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করা নেতা-কর্মীরা যেন নিজেদের বঞ্চিত মনে না করেন বা দল থেকে দূরে সরে না যান, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দীর্ঘদিনের নিবেদিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়লে বা তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে নির্বাচনের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলেন, কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে নিবেদিত ও যোগ্য নেতাদের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় হতাশা তৈরি করা এড়িয়ে চলা উচিত।

Most Popular