ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলটি করার পর পুরো আর্জেন্টিনা উল্লাসে মাতে। কিন্তু সেই উল্লাসের মাঝেই চোখের জল লুকাতে পারেননি লাউতারো মার্তিনেজ। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি জানালেন, ছোটবেলায় বাবার কাছ থেকে প্রথম ফুটবল বুট পাওয়ার পর থেকেই এমন একটি গোল করার স্বপ্ন দেখে এসেছেন।
আটলান্টায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। আর এই জয়ের শেষ মুহূর্তের নায়ক লাউতারো মার্তিনেজ। যোগ করা সময়ে তার করা গোলেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবেগ সামলাতে পারেননি ইন্টার মিলানের এই তারকা স্ট্রাইকার, ‘সত্যি বলতে আমি জানি না কী বলব… অনুভূতিটা অসাধারণ। বাবা যখন প্রথম আমার জন্য এক জোড়া বুট কিনে দিয়েছিলেন, তখন থেকেই আমি এমন একটি গোল করার স্বপ্ন দেখতাম।’
এরপর মায়ের কথা বলতে গিয়ে আরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি, ‘আমার মায়ের জন্য… যেদিন আমি রেসিং ক্লাবে যোগ দিতে বাড়ি ছেড়েছিলাম, সেদিন থেকে তিনি আজও আমার বিছানা গুছিয়ে রাখেন। আমার কাছে সেটার মূল্য একটি গোল বা একটি ফাইনালের চেয়েও বেশি।’
এই বিশ্বকাপে লাউতারোর এটি তৃতীয় গোল। এর আগে গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দলের তৃতীয় গোলটিও করেছিলেন তিনি।
নিজের জীবনে দুই সন্তানের আগমনের পর বদলে যাওয়ার কথাও বলেন এই ফরোয়ার্ড।
‘আমার দুই সন্তান আমার জীবন বদলে দিয়েছে। আমি এখন অনেক শান্ত হয়েছি। আজ আমি একজন পরিণত মানুষ এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি,’ বলেন লাউতারো।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতলেও একটিও গোল করতে পারেননি লাউতারো। তাই এবারের বিশ্বকাপটি তার জন্য যেন আত্মপ্রমাণের মঞ্চ।
‘আমি এই মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেছি। আমি শপথ করে বলছি, ম্যাচের আগেই অ্যালেক্সিসকে (ম্যাক অ্যালিস্তার) বলেছিলাম আমি গোল করব। ফাকুকেও (ফাকুন্দো মেদিনা) বলেছিলাম, আমি নেমে ম্যাচ জিতিয়ে দেব।’
কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর ম্যাচ নিয়েও কথা বলেন তিনি, ‘এই দল বারবার দেখাচ্ছে আমরা কী দিয়ে তৈরি। ওরা ৬০ মিনিট প্রচণ্ড চাপ দিয়েছে, এরপর আর পারেনি। গোল করার পর ওরা অনেকটা পিছিয়ে যায়। তখন আমরা শান্তভাবে বল ঘুরিয়ে সুযোগ তৈরি করেছি। শেষ পর্যন্ত গোল পেয়েছি এবং আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছি।’
