Monday, June 15, 2026
Homeখেলাএক ম্যাচ পরই চাকরি হারাতে যাচ্ছেন লামুশি

এক ম্যাচ পরই চাকরি হারাতে যাচ্ছেন লামুশি

বিশ্বকাপের মাত্র একটি ম্যাচ শেষ হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তিউনিসিয়া। সুইডেনের বিপক্ষে ৫-১ গোলের বিধ্বংসী পরাজয়ের পর প্রধান কোচ সাবরি লামুশির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক নজির গড়বেন লামুশি। কারণ এর আগে কোনো কোচ টুর্নামেন্টের মাত্র একটি ম্যাচ পরিচালনার পর চাকরি হারাননি। আর লামুশি নিজেও ধারণা করছেন তার দায়িত্বের ইতি ঘটতে যাচ্ছে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর থেকেই তিউনিসিয়ার ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। ফেডারেশনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, লামুশির বিদায় এখন প্রায় সময়ের ব্যাপার মাত্র।

৫৪ বছর বয়সী এই কোচ চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু পাঁচ মাসের দায়িত্বকালে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার অধীনে তিউনিসিয়া পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে, যার মধ্যে জয় এসেছে মাত্র একটিতে।

সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগ ছিল সম্পূর্ণ অগোছালো। ইয়াসিন আয়ারি, আলেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর গিওকেরেস এবং ম্যাথিয়াস সভানবার্গের গোলের সামনে অসহায় দেখিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দলটিকে। এক পর্যায়ে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-১।

ম্যাচ শেষে হতাশ লামুশি নিজের দলের ভুলগুলোও স্বীকার করেন, ‘এটি কঠিন এবং কষ্টের একটি পরাজয়। এমন খারাপভাবে বিশ্বকাপ শুরু করা অবশ্যই হতাশাজনক। সুইডেনের দুই ফরোয়ার্ড বিশ্বমানের খেলোয়াড়। আমরা অনেক বেশি ভুল করেছি। আমাদের আত্মসম্মান আছে। এখন আমাদের প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে এবং আরও ভালো একটি চেহারা তুলে ধরতে হবে।’ কিন্তু সেই সুযোগ হয়তো আর পাচ্ছেন না তিনি।

বর্তমানে গ্রুপ ‘এফ’-এর তলানিতে রয়েছে তিউনিসিয়া। সামনে তাদের আরও দুটি ম্যাচ বাকি, ২১ জুন জাপানের বিপক্ষে এবং ২৬ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। তবে লামুশি সেই ম্যাচগুলোতে ডাগআউটে থাকবেন কি না, তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা।

লামুশি দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিউনিসিয়ার কোচ ছিলেন সামি ত্রাবেলসি। ২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পর তিনি দায়িত্ব ছাড়েন। এরপর নতুন যুগের আশায় লামুশিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু বাস্তবতা হয়েছে উল্টো। মার্চে হাইতির বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয়ই ছিল তার একমাত্র সাফল্য। বিশ্বকাপের ঠিক আগে বেলজিয়ামের কাছেও ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল তিউনিসিয়া।

অবশ্য টুর্নামেন্ট চলাকালে কোচ বরখাস্তের ঘটনা একেবারে নতুন নয়। তিউনিসিয়া নিজেরাও এর আগে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও কলম্বিয়ার কাছে হেরে গোলশূন্য অবস্থায় গ্রুপ পর্বেই কোচ হেনরিক কাসপারচাককে বরখাস্ত করেছিল তারা। শেষ ম্যাচে আলি সেলমি দায়িত্ব নিয়ে রোমানিয়ার বিপক্ষে ড্র করেছিলেন।

আফ্রিকান ফুটবলেও সাম্প্রতিক এমন একটি উদাহরণ রয়েছে। ২০২৪ সালে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে গ্রুপ পর্বে টানা দুই হারের পর আইভরি কোস্ট কোচ জ্যঁ-লুই গাসেকে বরখাস্ত করেছিল। তার সহকারী এমার্স ফায়ে দায়িত্ব নিয়ে দলকে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতিয়েছিলেন।

তিউনিসিয়ার ফুটবল কর্তারা হয়তো এখন সেই ইতিহাস থেকেই অনুপ্রেরণা খুঁজছেন। কারণ বিশ্বকাপে টিকে থাকার আশা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। কিন্তু প্রথম ম্যাচের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর তারা মনে করছে, নতুন কোনো কণ্ঠস্বরই হয়তো দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সুযোগ দিতে পারে।

 

Most Popular