ফুডপান্ডা বাংলাদেশের পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী মশিউর রহমান।
তিনি বলেন, এসব মামলায় হাইকোর্ট ইতোমধ্যে তাদের ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার আইনজীবী মশিউর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, হাইকোর্টের আগাম জামিনের আদেশগুলো নিম্ন আদালতের কার্যক্রম চলাকালে উপস্থাপন না করায় ঢাকার আদালত গতকাল বুধবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
তিনি বলেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর চারটি মামলায় ফুডপান্ডার পাঁচ কর্মকর্তাকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট। এর মধ্যে গতকাল নিম্ন আদালত যে দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন, সেগুলোও রয়েছে।
মশিউর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারপতিরা এখনো আদেশে সই না করায় আমরা হাইকোর্টের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি এখনো পাইনি। এসব মামলায় হাইকোর্টের ছয় সপ্তাহের মধ্যে আসামিদের সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়ার কথা। হাইকোর্টের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। এরপর আমরা অভিযুক্ত ফুডপান্ডা কর্মকর্তাদের পক্ষে নিম্ন আদালতে জামিননামা জমা দেব। তাই এখন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর হবে না।
তিনি আরও বলেন, ১৩ সেপ্টেম্বর চারটি মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা আম্বারীন রেজা, সহপ্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, পান্ডামার্টের পরিচালক মোহাম্মদ তাবরেজ খান, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক ও সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ সাদজাদুল হককে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আসামিদের আগাম জামিন চেয়ে করা আটটি পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আইনজীবী আরও বলেন, ওইদিন জামিনের জন্য আসামিরা বেঞ্চে হাজির হয়েছিলেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, গতকাল মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণের পর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাশিতা ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়ে গুলশান থানা পুলিশ ওই পাঁচ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে দুটি পৃথক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
গত বছরের ৩ জুলাই আদালতে এ দুটি মামলা করেন আইপিইএল ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির। পরে আদালত গুলশান থানাকে মামলা দুটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এদিকে, ফুডপান্ডা বাংলাদেশের সিস্টার কনসার্ন ‘ডেলিভারি হিরো স্টোরস (বাংলাদেশ)’ গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মোকাবিলা করবে এবং তাদের কোনো কর্মকর্তা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন।
এতে আরও বলা হয়, ‘কর্মচারীদের ওপর কোনো অপরাধের দায় না চাপিয়ে বিরোধের মূল বিষয়গুলো আদালতের সামনে তুলে ধরতে ডেলিভারি হিরো স্টোরস অঙ্গীকারবদ্ধ।’
