Thursday, September 24, 2026
Homeখেলাচ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম সপ্তাহে এমবাপে-হালান্ড-ইয়ামালদের রেকর্ডসহ যত কীর্তি

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম সপ্তাহে এমবাপে-হালান্ড-ইয়ামালদের রেকর্ডসহ যত কীর্তি

ঝড়ো গতিতেই ফিরল উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ২০২৬-২৭ মৌসুমের লিগ পর্বের প্রথম সপ্তাহেই গোলবন্যা আর একঝাঁক নতুন রেকর্ডের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব।

স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে ৬-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে পিএসজি। তাদের পাশাপাশি বড় জয় পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ, বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যানচেস্টার সিটিও দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে। তবে জয়ের জন্য ঘাম ঝরাতে হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ, লিভারপুল ও আর্সেনালকে।

মাঠের লড়াইয়ে তারকা ফুটবলারদের চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্সে তৈরি হয়েছে অনেক নতুন ইতিহাস। সেগুলোর দিকে এবার চোখ রাখা যাক:

১২ ও ২২: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের ১২তম গোলটি পেয়েছেন বার্সেলোনা তারকা লামিনে ইয়ামাল। প্রতিযোগিতাটিতে কিশোর বয়সে সর্বোচ্চ গোলের দিক থেকে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের (১৩) চেয়ে মাত্র ১ গোল পিছিয়ে। তবে গোল অবদানের (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) বিচারে এমবাপ্পেকে (২০) টপকে কিশোর বয়সে সর্বোচ্চ ২২টি গোল অবদানের নতুন রেকর্ড গড়েছেন এই স্প্যানিশ উইঙ্গার।

৫৯ ও ৩৬: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৫৯ ম্যাচে ৫৯ গোল করে প্রতি ম্যাচে গোলের হারে আসরের সেরা গড়ে অবস্থান করছেন ম্যানচেস্টার সিটির এরলিং হালান্ড। এফসি পোর্চুর বিপক্ষে গোল করে সিটির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৩৬ গোল নিয়ে ক্লাবের সর্বকালের যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ছুঁয়েছেন সার্জিও এগুয়েরোকে।

৭১: রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের ৭১তম গোল করে স্পর্শ করেছেন স্প্যানিশ কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেসকে। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তারা যৌথভাবে পঞ্চম সর্বোচ্চ গোলদাতা।

৮: বায়ার্নের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন টানা ৮টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে গোল করলেন (মোট ১০ গোল)। বায়ার্নের হয়ে রবার্ট লেভানডভস্কির টানা ৯ ম্যাচে গোলের সর্বকালের সেরা রেকর্ড ছোঁয়া থেকে মাত্র ১ ম্যাচ দূরে আছেন তিনি।

৩৪: ২০২৬ সালে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মাইকেল ওলিসের গোল অবদান এখন ৩৪টি (১৭ গোল, ১৭ অ্যাসিস্ট)। ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগের খেলোয়াড়দের মধ্যে চলতি পঞ্জিকাবর্ষে তার চেয়ে বেশি গোল অবদান আছে কেবল তারই সতীর্থ হ্যারি কেইনের (৩৯টি)।

৩০: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উসমান ডেম্বেলে তার ৩০তম গোলটি পেয়ে গেছেন। এর মাধ্যমে ডাভিদ ট্রেজেগেকে টপকে তিনি টুর্নামেন্টের পঞ্চম সর্বোচ্চ ফরাসি গোলদাতা হয়েছেন।

১ ও ০: লিলের হয়ে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম লাল কার্ড দেখেছেন কিলিয়ানের ভাই ইথান এমবাপ্পে। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ৩য় ইউসিএল ম্যাচ। অথচ কিলিয়ান এমবাপ্পে ৯৯টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচ খেললেও একটিও লাল কার্ড দেখেননি!

৯০৪: দ্বিতীয় দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৯০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে বায়ার্ন মিউনিখ (৯০৪ গোল)। তাদের ওপরে আছে কেবল রিয়াল মাদ্রিদ (১১৩৯ গোল)।

১১: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে পিএসজি, যা ক্লাবের ২০১২ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে গড়া সর্বকালের সেরা রেকর্ডের চেয়ে মাত্র ২ ম্যাচ কম।

১: চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মূল একাদশে ১১টি ভিন্ন জাতীয়তার খেলোয়াড় নামানোর নজির গড়েছে আজারবাইজানের ক্লাব সাবাহ।

২: ইতালিয়ান ক্লাব কোমো তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিষেকের ম্যাচেই ৪ গোল করার কীর্তি গড়েছে। ১৯৯১ সালে রোসেনবার্গের বিপক্ষে সাম্পদোরিয়ার (৫-০) পর দ্বিতীয় ইতালিয়ান দল হিসেবে অভিষেকে ৪ বা তার বেশি গোল করার স্বাদ পেল তারা।

১০০: ১০০টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচ খেলা ৫৬তম ফুটবলার হওয়ার মাইলফলক ছুঁয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।

৫৪%: আর্সেনালের স্প্যানিশ গোলরক্ষক ডেভিড রায়া তার শুরুর একাদশে থাকা ৩৭টি ম্যাচের ২০টিতেই ‘ক্লিন শিট’ রেখেছেন (৫৪%), যা অন্তত ২৫ ম্যাচ খেলা যেকোনো গোলরক্ষকের জন্য টুর্নামেন্টের সেরা সাফল্য।

৯: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নবম স্প্যানিশ খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন ফেরান তোরেস। লা লিগার বাইরের কোনো ক্লাবের হয়ে ২০১৬ সালের পর স্প্যানিশ কোনো ফুটবলারের প্রথম হ্যাটট্রিক এটি।

৫/৫: লিভারপুলের বিপক্ষে ৫টি ম্যাচ খেলে ৫টি গোল করেছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মার্কোস লরেন্তে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অন্য প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ৫৪ ম্যাচ খেলে তার মোট গোলসংখ্যাও ঠিক ৫টি!

২১ বছর ৩১৯ দিন: ২০০৪ সালে ১৮ বছর বয়সে ওয়েন রুনির পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিষেকের ম্যাচে অ্যাসিস্ট করার কীর্তি গড়েছেন পাত্রিক ডোর্গু।

২২ বছর ২ দিন: মেসির (২০০৮ সালে ২১ বছর ১২০ দিন) পর সর্বকনিষ্ঠ আর্জেন্টাইন হিসেবে এক ইউসিএল ম্যাচে ২ বা তার বেশি অ্যাসিস্ট করার নজির গড়েছেন নিকো পাস।

৩১:২১: স্টুটগার্টের হয়ে এরমাদিন দেমিরোভিচ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসের ৫ম দ্রুততম (৩১ মিনিট ২১ সেকেন্ডে) হ্যাটট্রিক পূরণ করেছেন। এছাড়া এডিন জেকোর পর দ্বিতীয় বসনিয়ান হিসেবে আসরে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন তিনি।

১: প্রথম জাপানি গোলরক্ষক হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার ইতিহাস গড়েছেন জায়ন সুজুকি।

Most Popular