গাজীপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষক উম্মেল খায়ের ফাতেমা খান মজলিশের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এ এই মামলাটি (সি.আর. মামলা নং-১৮/২০২৬) নথিভুক্ত হয়।
মামলার বিবরণী ও সংগৃহীত আইনি নোটিশ থেকে জানা যায়, ফাতেমা খান মজলিশ গৃহঋণ বাবদ প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। এক বছরের মধ্যে মাসিক কিস্তিতে এই টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করলেও তিনি তা সম্পন্ন করেননি। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একাধিক লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি পাওনা টাকা ফেরত দেননি। এছাড়া একটি অডিট রিপোর্টে তার বিরুদ্ধে আরও পঞ্চাশ লাখ টাকা গরমিল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে বিষয়ে তাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিএমডিসির নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি এসোসিয়েট প্রফেসর পদে পদোন্নতি গ্রহণ করেন। বিএমডিসি কর্তৃক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতায় তিনি ২০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
প্রতিষ্ঠানের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পদত্যাগের পর ফাতেমা খান মজলিশ তার সহযোগী ইমরানকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার পরিচালনা করছেন। তদন্ত কমিটি এই অপপ্রচারের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
এছাড়াও ফাতেমা খান মজলিশের বিরুদ্ধে কোভিডের সময় জাল রিপোর্ট তৈরি এবং আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত জীবন ও স্বামীর মৃত্যুর বিষয়ে সহকর্মীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলোও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিএমডিসির আইন লঙ্ঘন এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
