Thursday, July 16, 2026
Homeবাংলাদেশবীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙা হচ্ছে, জানে না কেউ

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙা হচ্ছে, জানে না কেউ

ঝিনাইদহ জেলা শহরের প্রবেশদ্বারে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্যটি গত কয়েক দিন ধরে ভাঙা হচ্ছে। তবে কে বা কারা এটি ভাঙছে, সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

বুধবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকরা চত্বরটি ভেঙে ফেলছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

ভাস্কর্য ভাঙার বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কেন ভাঙা হচ্ছে তা জানি না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলতে পারবেন।’

যোগাযোগ করা হলে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘জেলা প্রশাসন এই স্থাপনা ভাঙার কাজ করছে না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই ভাস্কর্যটি ওই জায়গা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’

‘সড়ক বিভাগ এবং পৌরসভা ওই সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করছে সম্ভবত। তবে জেলা পুলিশ লাইনসের সামনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি প্রতিকৃতি করার পরিকল্পনা আছে জেলা প্রশাসনের,’ বলেন তিনি।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার বিষয়ে তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগে সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কারা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ভাস্কর্য ও চত্বরটি অপসারণ করছে, তা আমার জানা নেই।’

জেলা পরিষদের প্রশাসক এম মাজিদ ডেইলি স্টারকে বলেন, সেখানে একটি ভাস্কর্য ছিল, কিন্তু সেটি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছিল, তা নির্ধারণ করা কঠিন ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা দুই দফায় এটি ভাঙচুর করেছিল। এ ছাড়া এলাকাটিতে এটি দুর্ঘটনার কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কয়েকটি সভায় এটি সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিন্তু ভাঙার দায়িত্ব নিতে কেউ রাজি ছিল না।

তিনি আরও বলেন, `এখন কে এটি ভাঙার কাজ করছে, তা আমি জানি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ মাজিদ বলেন, `ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের কাছের গোলচত্বরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

২০১৯ সালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পৌরসভা। ৩০ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট প্রস্থের এই স্থাপনাটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিনের অবহেলায় ভাস্কর্যটি নির্ধারিত রূপ পায়নি। পরে চত্বরটি আগাছায় ঢেকে যায়।

স্থানীয় আজিজুল হক বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা শহরের প্রবেশমুখে কোনো না কোনো ভাস্কর্য বা স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে, যেখানে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি বা ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।

‘এই চত্বরটি ছিল ঝিনাইদহের গর্ব বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে। এখন দেখছি এটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে, কিন্তু কেন, তা আমরা জানি না’, বলেন তিনি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর ডেইলি স্টারকে বলেন, `সংসদ অধিবেশন চলছে এবং গত কয়েক দিন ধরে আমি ঢাকায় আছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি না।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান শুধু ঝিনাইদহ নয়, পুরো দেশের গর্ব।

তিনি বলেন, জীবন উৎসর্গ করে তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের এক অনন্য অধ্যায় রচনা করেছেন। তার নামে একটি চত্বর থাকলে নতুন প্রজন্ম তার অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে। এটি জেলার প্রবেশমুখে হলে আগত দর্শনার্থীরাও তার সম্পর্কে জানতে পারবেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সিপাহী ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের ধলাই সীমান্তঘাঁটি দখলের লড়াইয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে তিনি শহীদ হন।

১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হামিদুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ লাভ করেন। তিনি সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন।

 

Most Popular