Monday, July 6, 2026
Homeবাংলাদেশওয়ার্কশপে হাত হারানো কিশোর পেল ৩০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ

ওয়ার্কশপে হাত হারানো কিশোর পেল ৩০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ

ছয় বছর আগে করোনা মহামারির সময় কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে ডান হাত হারায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার ১৬ বছর বয়সী নাঈম হাসান নাহিদ। তিন বছরের আইনি লড়াই শেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আরও ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছে সে।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বেঞ্চের সামনে নাহিদের হাতে ১৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার তুলে দেন ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক হাজী ইয়াকুব হোসেন।

নাহিদের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, এই ১৫ লাখ টাকা পাওয়ার মাধ্যমে আদালত নির্ধারিত মোট ৩০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ পুরোপুরি বুঝে পেয়েছে নাহিদ। এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি নাহিদকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাজী ইয়াকুব হোসেনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের সেই রায় বহাল রাখেন।

২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামের জুতার ব্যবসায়ী নাহিদের বাবা কর্মহীন হয়ে পড়েন। এরপর নাহিদ, তার বাবা ও মা ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় নাহিদ তার ডান হাত হারায়।

দৈনিক প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর নাহিদের বাবা ছেলের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।

পরিবারের অভিযোগ ছিল, ওয়ার্কশপের মালিক নাহিদকে জোর করে ড্রিল মেশিনে কাজ করান এবং সেই কাজ করতে গিয়েই দুর্ঘটনার শিকার হয় সে।

রিটের পর ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং নাহিদের পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে ওয়ার্কশপের মালিককে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চান।

রুলের শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্ট ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

হাজী ইয়াকুবের আইনজীবী তায়মুর আলম খন্দকার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, তার মক্কেল এর আগে নাহিদকে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। সর্বশেষ ১৫ লাখ টাকা পরিশোধের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নাহিদকে মোট ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

Most Popular