নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর দ্রুত সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই এবং সিটি করপোরেশনসহ মাঠপর্যায়ে ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এ নির্দেশনা দেন তিনি।
একইসঙ্গে কমিটিকে এক মাসের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সমাধানযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা চিহ্নিত করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনিকে সদস্য করে তিন সদস্যের এ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যা থাকবেই। তারপরও সেই সমস্যার মধ্য দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বসে থাকলে চলবে না। পৃথিবীর অনেক দেশ একসময় আমাদের চেয়েও অনুন্নত ছিল, অথচ আজ তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে।’
‘সবাই একসঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করলে সেটি অবশ্যই সম্ভব। দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে,’ বলেন তিনি।
জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে গুলশান লেকের ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক লেকই আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব আবর্জনা সমাজের শিক্ষিত মানুষরাই ফেলছেন। যাদের সচেতন হওয়ার কথা, অনেক সময় তারাই সচেতন হন না। দেশকে পরিবর্তন করতে হলে শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদেরও সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। সবাইকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’
সভায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরেন।
বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে জনবল বৃদ্ধি, উন্নতমানের পরীক্ষাগার স্থাপন, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনায় আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয় উল্লেখ করে তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা বৃদ্ধিরও দাবি জানান।
