তেহরানে লাখো শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের একজন আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্যের জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই।
📹 حضور فرزندان رهبر شهید انقلاب در مصلی تهران#انتقام_خون_رهبر_شهید pic.twitter.com/4LPHVTbkss
এ ছাড়া, ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি এবং আইআরজিসির প্রধান আহমাদ ওয়াহিদিও অংশ নেন।
এপির খবরে বলা হয়েছে, খামেনির ছেলে মাসুদ, মেইসাম ও মোস্তফা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এবং ইসরায়েলের হুমকির মুখে তার উত্তরসূরি ও আরেক ছেলে মোজতবা খামেনি এতে অংশ নেননি।
১৪ মাস বয়সী নাতনিরও জানাজা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত খামেনির পরিবারের চার সদস্যের জন্যও আজ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তাদের মধ্যে ছিলেন তার মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি।
📹 نماز بر پیکر شهید زهرا و قابی دردناک از پدر#انتقام_خون_رهبر_شهید pic.twitter.com/vCfzNKPtBu
তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, জানাজার সময় তার ছোট কফিনটি দাদার কফিনের পাশেই রাখা ছিল।
সংস্থাটি জানিয়েছে, জাহরার বাবা মোহাম্মদ জাওয়াদ মোহাম্মাদি গোলপায়েগানিও নামাজে অংশ নেন।
একই হামলায় নিহত হন জাহরার মা ও খামেনির কন্যা বুশরা খামেনি।
প্রতিশোধের দাবিতে স্লোগান
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় দ্বিতীয় দিনের বিদায় অনুষ্ঠানে লাখো মানুষ খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেছেন। আগামীকাল রাজধানীজুড়ে শোকযাত্রা ও দাফন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানস্থলে শোকাহতদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে। ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ ও ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’—এমন স্লোগানের পাশাপাশি অনেকেই খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের প্রথম দিনেই বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাও প্রাণ হারান। সেসময় সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে একটি বৈঠক চলছিল।
এরপর ইরানে টানা ৪০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা হামলায় শুধু রাজনৈতিক কেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনাই নয়, সাধারণ জনগণও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
