১৯৯৮ সালের সেই রাতটি নিশ্চয়ই ব্রাজিল সমর্থকেরা সহজে ভুলবেন না। সেবার ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তৎকালীন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ২-১ ব্যবধানে স্তব্ধ করে দিয়েছিল নরওয়ে। মাঠের সেই অবিশ্বাস্য জয়ের রূপকারদের একজন ছিলেন দলটির বর্তমান কোচ স্টেল সলবাকেন। বিশ্বকাপে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটির বিরুদ্ধে সেলেসাওদের একমাত্র হারের ক্ষত হয়ে আজও টিকে আছে সেই ম্যাচ।
সোমবার নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে সেই সলবাকেন আবারও ব্রাজিলের সামনে। তবে এবার খেলোয়াড় হিসেবে নয়, ডাগআউটে দাঁড়িয়ে কৌশল খাটিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নিজেদের অবিশ্বাস্য আধিপত্য ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নামবেন তিনি।
ইতিহাস বলছে, নরওয়ের বিরুদ্ধে চারবার মাঠে নেমে একবারও জয়ের মুখ দেখেনি ব্রাজিল; দুটি ম্যাচ ড্র হলেও বাকি দুটিতে মাঠ ছাড়তে হয়েছে হার নিয়ে। ফুটবল বিশ্বের একমাত্র দল হিসেবে নরওয়ের সঙ্গেই এমন অম্লমধুর রেকর্ড সেলেসাওদের। রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের অভিযানে কার্লো আনচেলত্তির দল তাই চাইবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটি দ্রুততম সময়ে মুছে ফেলতে।
অন্যদিকে সলবাকেনের নরওয়ে ইতোমধ্যে দেখিয়েছে যে, যেকোনো সমীকরণ উল্টে দেওয়ার সামর্থ্য তাদের আছে। টানা দুই জয়ে ‘আই’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার পর, ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে শুরুর একাদশের প্রায় পুরোটাতেই পরিবর্তন আনেন নরওয়েজিয়ান কোচ। এরপর শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে তারা। ১৯৩৮ ও ১৯৯৮ সালে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেওয়া নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এটিই বিশ্বকাপে প্রথম নকআউট জয়।
ম্যাচজুড়ে স্পটলাইটের সিংহভাগ আর্লিং হালান্ডের ওপর থাকলেও, নরওয়েকে কেবল ‘এক জনের দল’ হিসেবে মূল্যায়ন করতে রাজি নন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার মাথেউস কুনিয়া। তিনি সতীর্থদের সতর্ক করে বলেন, ‘হালান্ড দুর্দান্ত খেলোয়াড় এবং জার্মানি ও ইংল্যান্ডের ফুটবলে ও নিয়মিত সেটা প্রমাণ করেছে। তবে আমাদের পুরো দলের ওপরই মনোযোগ দিতে হবে। ওদের আরও কয়েকজন বিপজ্জনক ফুটবলার আছে, যাদের অনেকে ইংল্যান্ডেই খেলে। এই মুহূর্তে নরওয়ে আমাদের জন্য অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ।’
ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে চোটের আঘাতও কম নয়। জাপানের বিরুদ্ধে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে দল থেকে ছিটকে গেছেন মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা। ফলে মাঝমাঠ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আনচেলত্তিকে। পাশাপাশি চলতি টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে এখনো মাঠে না নামা নেইমারকে এই ম্যাচে দেখা যাবে কি না, তা নিয়েও জল্পনা চলছে।
অবশ্য আক্রমণভাগে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দুই সপ্তাহের বিরতি কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন রাফিনহা। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে রায়ান যেভাবে নজর কেড়েছেন, তাতে শুরুর একাদশ সাজাতে মধুর সমস্যায় পড়তে হবে ব্রাজিলিয়ান কোচকে।
ব্রাজিলের জন্য আজকের ম্যাচটি কেবল কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়; বরং দীর্ঘ তিন দশক আর চার ম্যাচের আক্ষেপ ঘুচিয়ে বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা’ মিশনের পথে এগিয়ে যাওয়ার বড় পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষার মঞ্চে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এমন এক ব্যক্তি, যিনি নিজেই এই জুজুর সূচনা করেছিলেন।
