সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য বরাদ্দ দেওয়া ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেনের দাবি জানানো জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যের ‘সংসার সাজিয়ে’ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই আগ্রহের কথা জানান তিনি।
গতকাল বুধবার প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান এমপিদের ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ফ্ল্যাটের দরজা–জানালায় পর্দা লাগানোরও দাবি জানান।
আজ অধিবেশনে এ প্রসঙ্গের সমালোচনা করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘অনেক কষ্টের পরে এই পার্লামেন্ট (সংসদ) আমরা পেয়েছি। আমি আমার প্রথম বক্তব্যেও বলেছিলাম, এই সংসদের সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো এখানে স্বৈরাচারের কোনো দোসর বা ফ্যাসিস্টদের (ফ্যাসিবাদী) কেউ নেই।’
তিনি বলেন, ‘গত সংসদ কেবল গণতন্ত্র ও পার্লামেন্টকে হত্যা করেনি, পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডকে সাংঘাতিকভাবে নষ্ট করেছে। আমরা দেখেছি, এখানে গান হয়েছে, অন্য কিছু হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে, সরাসরি ওদিকে না গেলেও কিছু কিছু জায়গায় কিন্তু আমরা ওদিকে চলে যাচ্ছি।’
পার্থ বলেন, ‘কাল সংসদ থেকে যাওয়ার পরে আমি অনেক টেলিফোন পাই। ডেইলি স্টার নিউজ করে “জামায়াত এমপি ডিমান্ডস ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ, অ্যান্ড কার্টেইনস ইন এমপিস’ ফ্ল্যাটস”—এটা আমাকে অনেক লজ্জা দেয়। আমি মনে করি, এই পার্লামেন্টকেও অনেক লজ্জা দেয়।’
আন্দালিব রহমান পার্থ আরও বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য এখানে দাঁড়িয়ে জনগণের কথা বলবে। যেখানে জনগণের বিভিন্ন দাবির কথা বলবে। সেখানে তিনি দাঁড়িয়ে ওয়াশিং মেশিন পেল না মাইক্রোওয়েভ পেল না কার্টেইন পেল সে ব্যাপারে কথা বলবেন! যেখানে বলা হয়, আমরা গাড়ি নেব না, প্লট নেব না।’
‘আমার মনে হয়, আসলেই গাড়ি আর প্লট যখন ওনারা বাদ দিলো, তখন ওনাদের বুকের ওপর কত বড় পাথর চাপা দিয়ে বাদ দিতে হলো যে, মাইক্রোওয়েভ আর ওয়াশিং মেশিনের জন্য এই পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে!’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।
সংসদের মান বজায় রাখা উচিত বলে মত দেন এই সংসদ সদস্য।
মিজানুর রহমানের নাম না নিয়ে পার্থ বলেন, ‘আমার ভাই যেহেতু মন্তব্য করেছেন উনি চান, আমি ওনাকে বিব্রত না করে…আগামীতে যদি ওনার পর্দা আর মাইক্রোওয়েভ লাগে, আমি আমার তরফ থেকে ওনাকে একটা মাইক্রোওয়েভ দিতে চাই। এবং আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করতে চাই, যেন ওয়াশিং মেশিনটা উনি দেন। হোম মিনিস্টার থাকলে আমি বলতাম, উনি যদি পর্দাটা কিনে দিয়ে ওনার সংসারটা আমরা গুছিয়ে দিতে পারতাম। তারপরও যদি পার্লামেন্টকে উনি ইমব্যারাস (বিব্রত) না করতেন।’
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটা পয়েন্ট অব অর্ডারের মধ্যে পড়ে না। দ্বিতীয়ত, যে সদস্য বাজেট সেশনের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছেন। বাজেট সেশন এমন একটি সেশন, সেখানে অনেক বিষয়ে বক্তব্য রাখা যায়। তা ছাড়া একজন সদস্য তার সুবিধা-অসুবিধার কথা বলেছেন। আমি মনে করি, এটা সংসদে না বললে ভালো হতো। কিন্তু এটা বলে এমন কোনো গর্হিত অপরাধও তিনি করেননি।’
স্পিকার বলেন, ‘আমাদের হাউস কমিটি আছে, সেখানে আমরা সংসদ সদস্যদের আসবাবপত্র দিয়ে থাকি। তিনি শুধু তার নিজের জন্য চাননি, যারা সংসদের দেওয়া হাউসে বসবাস করেন, সকলের সম্পর্কে বলেছেন। সুতরাং এটা এমন কোনো গর্হিত অপরাধ হয়নি। তবে আমি মনে করি, না বললেই ভালো হতো। এতে জনমনে অন্য ধরনের ধারণা হতে পারে। তবে এটি এমন কোনো বড় জিনিস না। এটি নিয়ে আর তর্ক-বিতর্ক চাই না।’
এর পরপরই জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, ‘একজন সদস্য সবার জন্য একটা বিষয় বলেছেন। আপনি ঠিক বলেছেন, এটা হাউসে না বলে কমিটিতে বললেই হতো। কিন্তু তিনি এটার সূত্র ধরে গাড়ি-বাড়ি সব নিয়ে আসলেন! উনি একজন বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, নিজে থেকে অফার দিয়ে বললেন—“আমি সব দিয়ে দেব”। ওনার কাছে কেউ চেয়েছে নাকি যে, উনি দেবেন?’
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত, এখানে দাঁড়িয়ে অন্তত কেউ কারও সম্মানে আঘাত করব না।’
স্পিকার তখন বলেন, ‘আন্দালিব রহমান পার্থর বক্তব্যে আমি যেটা বুঝতে পেরেছি, তিনি কাউকে খাটো করার জন্য বলেননি। সাহায্য করার জন্য বলেছেন, যেটার দরকার ছিল না।’
