অপ্রতিরোধ্য দেয়াল হয়ে সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিয়ে দুদিন আগে নায়ক হন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক জোসিমার ডিয়াস ভোজিনহা। তবে বীরত্বপূর্ণ নৈপুণ্য দেখানোর পর জানিয়েছিলেন ভিসা জটিলতায় মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে না পারার দুঃখজনক গল্প। তার সেই হাহাকার স্পর্শ করে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের এক ডেমোক্র্যাট নেতার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিওর কাছে বিষয়টি সুরাহার আহ্বান করেছেন তিনি।
স্পেনের বিপক্ষে ভোজিনহার দৃঢ়তায় প্রথমবার খেলতে আসা কেপ ভার্দে গোলশূন্য ড্র করে একটি পয়েন্ট পায়। কিন্তু এই বিশেষ মুহূর্তে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি তার মা আনা ক্যান্ডিদা এভোরা।
এর পেছনে কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতি। গত জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন কেপ ভার্দেসহ বেশ কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করে। যদিও টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে গত মাসে বিশ্বকাপ টিকিটধারীদের জন্য এই নিয়ম শিথিল করা হয়েছিল, কিন্তু অতিরিক্ত খরচ এবং জটিলতার কারণে এভোরা আর ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেননি।
বিশ্বকাপের মাঠে একজন মায়ের এভাবে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি ছুঁয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিসকে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোজিনহার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের প্রশংসা করার পাশাপাশি এই মানবিক বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি সরাসরি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিওর কাছে আহ্বান জানান, যাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে আগামী রবিবারের পরবর্তী ম্যাচের আগেই ভোজিনহার মায়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার ব্যবস্থা করা হয়। জেফ্রিস বলেন, ‘কোনো মায়েরই তার সন্তানের ইতিহাস গড়ার মুহূর্তটি মিস করা উচিত নয়।’
এদিকে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মারিও সেমেদো জানিয়েছেন, তাদের মতো ছোট দেশগুলোর জন্য বিশ্বকাপের টিকিট, বিমান ভাড়া ও আবাসন খরচ বহন করা এমনিতেই অত্যন্ত কঠিন, তার ওপর এই ভিসা বন্ডের মতো কড়া নিয়ম পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। শুধু ভোজিনহার পরিবারই নয়, সোমালি রেফারি ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ইরানের বেশ কয়েকজন স্টাফের ভিসাও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এভোরার কোনো ভিসার আবেদন তাদের সিস্টেমে এখনো জমা পড়েনি এবং খেলোয়াড়দের পরিবারের জন্য এই বন্ড মওকুফের সুযোগ রয়েছে। তবে রবিবারের ম্যাচের আগেই যাতে এই সমস্যার সমাধান করা যায়, সেজন্য তারা এখন ভোজিনহার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন।
