Monday, June 15, 2026
Homeখেলা৭ গোল হজমের পরও গর্বে ভাসছে কুরাসাও

৭ গোল হজমের পরও গর্বে ভাসছে কুরাসাও

স্কোরবোর্ড বলছে ৭-১। সংখ্যাটা নির্মম, নির্দয়। কিন্তু কুরাসাওয়ের জন্য গল্পটা কেবল এই সাত গোলের নয়। তাদের বিশ্বকাপ অভিষেকের গল্পে পরাজয়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে উপস্থিতি, সাহস এবং স্বপ্ন।

বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া ক্ষুদ্র দ্বীপদেশ কুরাসাও রোববার জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে ম্যাচ শেষের পর দৃশ্যটা ছিল ব্যতিক্রমী। দর্শকরা স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যাননি। বরং নিজেদের খেলোয়াড়দের জন্য দাঁড়িয়ে করতালি দিয়েছেন, গান গেয়েছেন, উল্লাস করেছেন। কারণ তাদের কাছে এই দিনটি শুধু একটি ম্যাচের দিন ছিল না; এটি ছিল ইতিহাসের দিন।

মাত্র দেড় লাখ মানুষের দেশ কুরাসাও বিশ্বকাপের ইতিহাসে জনসংখ্যা ও আয়তনের বিচারে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে এই টুর্নামেন্টে জায়গা করে নিয়েছে। তাই জার্মানির মতো বিশ্বশক্তির বিপক্ষে মাঠে নামাটাই ছিল এক বিশাল অর্জন।

আর সেই অর্জনের মধ্যে আরও একটি স্মরণীয় মুহূর্ত যোগ করেন লিভানো কোমেনেনসিয়া। ম্যাচের শুরুতে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে কুরাসাওয়ের প্রথম গোলদাতা হয়ে যান তিনি। এক সময় ম্যাচের স্কোরও ছিল ১-১। টানা ৩৮ মিনিট জার্মানদের আটকে রেখেছিল কুরাসাও। এরপর অবশ্য জার্মান আক্রমণের স্রোতে ভেসে যায় তারা।

তবু পরাজয়ের পর হতাশার চেয়ে গর্বই বেশি ছিল সমর্থকদের কণ্ঠে। সমর্থক ওটমার কর্নেলিয়া বলেন, ‘আমি ভীষণ গর্বিত। আমরা সবচেয়ে ছোট দ্বীপ, সবচেয়ে ছোট দেশ, অথচ আমরা জার্মানির বিপক্ষে গোল করেছি। আমরা খুবই খুশি এবং ভীষণ গর্বিত।’

কুরাসাওয়ের অনেক সমর্থক বিশ্বাস করেন, এই বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। দেশের ভেতরে কিংবা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কুরাসাও বংশোদ্ভূত তরুণদের কাছে এটি প্রমাণ করে দিয়েছে যে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

সমর্থক স্যান্ডি মার্টিনা বলেন, ‘যেসব শিশু এই ম্যাচ দেখেছে, তারা এখন জানবে যে ভবিষ্যতের কোনো সীমা নেই। আমি সম্মানিত বোধ করছি, আমি আনন্দিত। কুরাসাওকে উদযাপন করছি। আমরা আবার বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছি। আমরা বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেছি। এটি আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার, আমার দেশের জন্যও।’

ক্যারোলিন স্লুইস নিজের ছেলেকে নিয়ে কুরাসাও থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন ম্যাচটি দেখতে। তার কাছেও এই অভিজ্ঞতা ছিল অবিশ্বাস্য। তিনি বলেন, ‘এটা দারুণ আনন্দের। কুরাসাও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে। আমরা মাত্র দেড় লাখ মানুষের একটি ছোট দ্বীপ। তবুও আমরা এখানে। এটা সত্যিই অসাধারণ।’

বিশ্বকাপে কুরাসাওয়ের যাত্রা অবশ্য এখানেই শেষ নয়। আগামী শনিবার কানসাস সিটিতে ইকুয়েডরের মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ২৫ জুন ফিলাডেলফিয়ায় খেলবে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে।
 

Most Popular