Tuesday, October 6, 2026
Homeঅর্থনীতিউৎপাদনে ফিরেছে যমুনা সার কারখানা

উৎপাদনে ফিরেছে যমুনা সার কারখানা

গ্যাস সংকটে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফিরেছে যমুনা সার কারখানা।

আজ মঙ্গলবার সকালে কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ভোররাত ৩টার দিকে সার উৎপাদন শুরু হয়েছে।

এর আগে গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ২৩ মাস কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। এরপর চালু হলেও চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংকটে আবারও কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি, বলেন ফজলুল হক।

কারখানার ডিজিএম (অ্যাডমিন) দেলোয়ার হোসেন জানান, নিরবচ্ছিন্ন ইউরিয়া উৎপাদনে গ্যাসের আদর্শ চাপ প্রয়োজন ৪৬ এমএমসিএফ। তবে ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ থাকলেও উৎপাদন চালানো যায়।

‘এতদিন তিতাস কর্তৃপক্ষ ২৭ থেকে ২৮ এমএমসিএফ চাপে গ্যাস সরবরাহ করছিল। চাপ কম থাকায় প্রস্তুতি নিয়েও কারখানা চালু করা যায়নি,’ যোগ করেন তিনি।

দীর্ঘদিন পর সচল হওয়ায় জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে কারখানার আশপাশের এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

যমুনা সার কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মালেক বলেন, ‘হোটেলের আয়ের ওপর আমাদের সংসার চলে। কারখানা বন্ধ থাকলে আমাদের হোটেলে লোকজন আসে না, বেচাকেনাও হয় না। কারখানা বন্ধ থাকায় অনেক টাকা ঋণ করতে হয়েছে।’

ট্রাকচালক মশিউর মিয়া জানান, কারখানা চালু থাকলে মাসে ১৭ থেকে ২০টি ট্রিপ বা ভাড়া পান তিনি। কারখানা বন্ধ থাকায় মাসে মাত্র তিন-চারটি ভাড়া মিলেছে।

তিনি বলেন, ‘এখন সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। আশা করি, আমাদের শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।’

দৈনিক এক হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও কয়েক বছর ধরে গ্যাসের স্বল্প চাপ ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানাটিতে দৈনিক এক হাজার ২০০ থেকে ৪০০ টন সার উৎপাদন হচ্ছিল।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত এক হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে যমুনা সার কারখানা জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে থাকে।

দেলোয়ার হোসেন জানান, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে প্রতি মাসে কারখানাটিতে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদিত হয়। মুনাফা হয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও যন্ত্রপাতি সচল রাখতে প্রতি মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকার গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হয়।

যমুনা সার কারখানার অ্যামোনিয়া অ্যান্ড ইউটিলিটি বিভাগের প্রধান ফজলুল হক বলেন, ‘বর্তমানে কারখানার সব কিছু সচল রয়েছে। আশা করছি, প্রতিদিন এক হাজার ২০০ থেকে ৪০০ টন সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে।’

Most Popular