Friday, September 25, 2026
Homeখেলাআর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ১১৫টি অভিযোগের ১১৪টিতেই দোষী সাব্যস্ত ম্যানচেস্টার সিটি

আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ১১৫টি অভিযোগের ১১৪টিতেই দোষী সাব্যস্ত ম্যানচেস্টার সিটি

আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আনা ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। শুক্রবার ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সেখানে আরও বলা হয়েছে, ম্যান সিটিকে কী শাস্তি দেওয়া হবে, সেটির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং ক্লাবটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে যাচ্ছে।

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা একটি স্বাধীন কমিশনের শুনানির পর আসা এই রায় ইংলিশ ফুটবলে বড় ধরনের আলোড়ন তুলতে পারে। আর্থিক অনিয়মের ওপর ভিত্তি করে ইতিহাদ স্টেডিয়ামের ক্লাবটি সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছে— এমন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সিটির শিরোপায় মোড়ানো সোনালী যুগের অর্জনগুলো এখন হুমকির মুখে পড়েছে।

২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালে ম্যান সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো এনেছিল প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। সেগুলোর মধ্যে আছে সঠিক আর্থিক তথ্য না দেওয়া, খেলোয়াড় ও কোচদের পারিশ্রমিকের তথ্য গোপন করা এবং আর্থিক স্থায়িত্বের নিয়ম ভঙ্গ করা। তবে শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে সিটিজেনরা।

২০০৮ সালে শেখ মনসুরের মালিকানায় থাকা আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপের অধীনে যাওয়ার পর ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে ম্যান সিটি। মনসুর আবুধাবির রাজপরিবারের সদস্য ও রাজনীতিবিদ। গত ১৫ বছরে দলটি আটটি প্রিমিয়ার লিগ, চারটি এফএ কাপ, সাতটি লিগ কাপ ও একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছে।

২০১৮ সালে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডের স্পিগেলে ফাঁস হওয়া কিছু নথির সূত্র ধরে মূলত সন্দেহ দানা বাঁধে। ফাঁস হওয়া বিভিন্ন ইমেইলে দেখা যায়, সিটির শীর্ষ কর্মকর্তারা আবুধাবির রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা ইতিহাদ এবং টেলিকম প্রতিষ্ঠান ইতিসালাতের স্পনসরশিপের থেকে ক্লাবটির প্রাপ্ত আয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দেখিয়েছিলেন। মূলত শেখ মনসুরের মালিকানাধীন আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপের সরাসরি বিনিয়োগকেই স্পনসরের আয় হিসেবে দেখানো হয়েছিল।

অন্যান্য নথিতে ক্লাবটির তৎকালীন ইতালিয়ান কোচ রবার্তো মানচিনিকে আবুধাবির একটি ক্লাবের পরামর্শক ফি হিসেবে গোপনে অর্থ দেওয়ার দাবিও করা হয়েছিল।

চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত হলে ম্যান সিটির জন্য শুধু বড় অঙ্কের পয়েন্ট কাটাই নয়, বরং প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর শাস্তিও হতে পারে। এর আগে একটি মাত্র নিয়ম ভাঙায় ২০২৩-২৪ মৌসুমে এভারটন ও নটিংহ্যাম ফরেস্টের পয়েন্ট কাটা হয়েছিল।

কঠোর শাস্তি হলে ম্যান সিটিতে থাকা আর্লিং হালান্ড, এনজো ফার্নান্দেজ ও ফিল ফোডেনের মতো তারকা খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হবে। এছাড়া, অন্য ক্লাবগুলো সিটির জেতা শিরোপা বাতিল ও ক্ষতিপূরণের দাবি তুলতে পারে।

Most Popular