দেশসেরা নাট্যদল নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সদ্য প্রয়াত অভিনেতা-নির্দেশক ও নাট্যকার আতাউর রহমান।
প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণী অভিনেতা-নাট্যকার ও পরিচালক আবুল হায়াত। এই দুই গুণী নাট্যব্যক্তিত্ব একসঙ্গে বহু বছর পথ চলেছেন।
আতাউর রহমানকে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন আবুল হায়াত।
আবুল হায়াত বলেন, ‘কী বলব? ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এত কাছের ও প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন আতা ভাই, তাকে হারিয়ে ফেললাম! মনটা বিষন্ন হয়ে আছে। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।’
আতাউর রহমানের সঙ্গে পরিচয়ের বিষয়ে আবুল হায়াত বলেন, ‘সেই কত বছর আগে থেকে তাকে চিনি। তখন চট্টগ্রামে থাকতাম। একই স্কুলে পড়েছি। আমার চেয়ে কয়েক বছরের বড় ছিলেন। চেনা মানুষটিকে আজ শেষবারের মতো দেখে এলাম। দেখার পর স্কুলজীবনে দেখা মুখটা মনে পড়েছিল। সেই চেনা মুখ এখন নীরব।’
নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের শুরুর স্মৃতি মনে করতে গিয়ে আবুল হায়াত বলেন, ‘অনেক বছর আগের কথা। নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় গঠন করা হবে। গোলাম রাব্বানী আমাকে নিয়ে গেলেন। সেখানে যাওয়ার পর আতা ভাইকে পেলাম। দল গঠন করা হলো। প্রতিষ্ঠাতাদের একজন আমিও। আতা ভাই প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হলেন। জিয়া হায়দার হলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। নতুন পথচলা শুরু হলো আমাদের।’
আবুল হায়াত বলেন, ‘একসঙ্গে দীর্ঘ একটা পথ আমরা পাড়ি দিয়েছি। মঞ্চ নাটকের দলের বেশি সময় কাটে রিহার্সেলে। প্রদর্শনী তো মাত্র একদিন হয়। যেদিন হয় সেদিনই শেষ। কিন্তু রিহার্সেল করতে হয় মাসের পর মাস। কখনো কখনো ছয় মাস ধরে চলে রিহার্সেল।
তখন আমাদের প্রতিদিন দেখা হয়, নাটকের বাইরেও গল্প হয়। অসংখ্য স্মৃতি জমা হয়। এভাবেই আতা ভাইয়ের সঙ্গেও বহু বছরের সম্পর্ক। অনেক স্মৃতি জমে আছে। কিন্তু আজ তিনিই নেই।’
আতাউর রহমানকে মঞ্চ সারথী নামে ডাকা হয়। এ প্রসঙ্গে আবুল হায়াত বলেন, ‘জানি না এত সুন্দর উপাধি কে দিয়েছেন। তবে তার জন্য এটাই ভালো উপাধি। মঞ্চের প্রাণপুরুষ ছিলেন আতাউর রহমান। মঞ্চ নাটকের জন্য অনেক অবদান রেখে গেছেন। জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু মঞ্চের জন্য দিয়ে গেছেন।’
আবুল হায়াত বলেন, ‘একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। পাণ্ডিত্য ছিল খুব। রবীন্দ্র ভক্ত ছিলেন। প্রচুর পড়াশোনা করেছেন। মঞ্চে তার নির্দেশনাগুলো অসাধারণ। কাজ দিয়েই বেঁচে থাকবেন।’
পেছনের স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ‘একসময় চাকরি করতেন। সেই চাকরি ছেড়ে নাটকের দলের জন্য সময় দেন। একটা জীবন তিনি মঞ্চের জন্য দিয়ে গেছেন, নাটকের জন্য দিয়ে গেছেন। এখন তিনি চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে। ড. ইনামুল হক চলে গেছেন।
জামালউদ্দিন হোসেন চলে গেছেন। আমারও বয়স হয়েছে। প্রিয় মানুষরা এক এক করে চলে যাচ্ছেন।’
আবুল হায়াত বলেন, ‘আমার বড় মেয়ে বিপাশা আর আতা ভাইয়ের মেয়ে ভালো বন্ধু। ওদেরও অনেক স্মৃতি আছে বেড়ে ওঠার সময়ের, মঞ্চ নাটককে কেন্দ্র করে।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘এক এক করে স্মৃতিগুলো মনে পড়ছে। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন।’
