আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ার পেছনে রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, অতীতে মেধার পরিবর্তে রাজনীতিকরণকে প্রাধান্য দেওয়ায় এবং মানসম্মত গবেষণাধর্মী প্রকাশনার অভাব থাকায় অ্যাকাডেমিক পারফরম্যান্সে এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, একাডেমিক যোগ্যতা ও ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। তিনি বলেন, যদি ফলাফল ও খাঁটি মেধা যাচাই করে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা যায় এবং শিক্ষকদের নিয়মিত প্রকাশনার চর্চা বাড়ানো যায়, তবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নেতিবাচক অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।
শিক্ষায়তনের মান উন্নয়নে গবেষণা পত্রের প্রকাশনা ও সাইটেশনের (উদ্ধৃতি) গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চমানের প্রকাশনা ও সাইটেশনের ক্ষেত্রে আমরা এক ধরণের ঘাটতি লক্ষ্য করেছি।
বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, সেখানে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পদোন্নতি—সবই নির্ধারিত হয় একাডেমিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, বিশ্বের নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডিন হওয়া বা বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে একাডেমিক পারফরম্যান্সই প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের সংস্কারগুলোকে ভবিষ্যতে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফর্মিং হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ রোডম্যাপ টু সাস্টেইনেবল এক্সিলেন্স’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি স্কুল পর্যায়ে সরকার কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছে বলে জানান।
