Tuesday, May 12, 2026
Homeবাংলাদেশমুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান আরপিওতে নেই: সুপ্রিম কোর্ট

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান আরপিওতে নেই: সুপ্রিম কোর্ট

মুক্তিযুদ্ধের সময় নেতাদের ভূমিকার ভিত্তিতে কোনো দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) নেই বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রকাশিত আপিল বিভাগের ৫১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ কথা বলা হয়েছে।

দলটির নিবন্ধন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে রিটের ২৫ জন আবেদনকারী বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির নেতাদের জঘন্য ভূমিকার কারণে বাংলাদেশে রাজনীতি করার জন্য তাদের নিবন্ধন দেওয়া উচিত হয়নি।

তবে আপিল বিভাগ বলেছে, তাদের এই আপত্তি আইনি নয়, বরং আবেগপ্রসূত বলে মনে হয়। কারণ, মুক্তিযুদ্ধে কোনো দলের নেতাদের ভূমিকার ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের কোনো বিধান আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত নেই।

গত বছরের ১ জুন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ ২০১৩ সালের ‘জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা’ করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বাতিল করে সংক্ষিপ্ত আদেশ দেন।

জামায়াতের করা আপিলের পর সর্বোচ্চ আদালত নির্বাচন কমিশনকে জামায়াতের নিবন্ধনসহ মুলতবি থাকা বিষয়গুলো নিষ্পত্তির নির্দেশও দেন।

পরে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন পুনর্বহালসহ অন্যান্য বিষয় নিষ্পত্তি করে এবং ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বরাদ্দ দেয় বলে দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছিলেন দলটির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করলে দলটি রাজনৈতিক দল হিসেবে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার হারায়। একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ রায় দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ জন ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি রিট আবেদনটি করেন। তারা আদালতের কাছে দলটির নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার নির্দেশনা চেয়েছিলেন।

পরে ২০১৮ সালের অক্টোবরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে।

এরপর জামায়াত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে। ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের শুনানি শুরু হয়।

আপিল বিভাগের শুনানিতে এ বিষয়ে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে কোনো আইনজীবী যুক্তি উপস্থাপন করেননি।

২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট ফুল কোর্ট সভা সিদ্ধান্ত নেয়, যেহেতু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকটি সর্বোচ্চ আদালতের মনোগ্রাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাই এটি যেন কোনো রাজনৈতিক দলকে বরাদ্দ না দেওয়া হয়—এ মর্মে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হবে।

সে অনুযায়ী তৎকালীন সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠিও পাঠায়।

Most Popular