স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের নির্মূল করা হবে। এসব অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরে হামলায় আহত ডা. মো. আসাদুর রহমানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডা. আসাদুরের ওপর হামলায় জড়িত সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের সাত সদস্যের মধ্যে চারজনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা লক্ষ্মীপুর থেকে একজন ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। চক্রটির মূলহোতাকেও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি একটু পুলিশের প্রশংসা করি, তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মূলহোতাকে ধরতে সক্ষম হয়েছে। সে বিদেশে ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মূলহোতা আগে হুন্ডি ব্যবসা করতো। এতে বড় ধরনের লোকসানের পর সে কয়েকজন অপরাধীকে নিয়ে একটি চক্র গড়ে তোলে। ওই চক্রটি ধনী ব্যক্তি, পেশাজীবী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীসহ প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের চাঁদাবাজির জন্য টার্গেট করতো।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চক্রটির সদস্যরা প্রথমে বড় হাসপাতালের চিকিৎসকসহ প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবীদের হুমকি দিয়ে বার্তা পাঠাত। পরে টাকা আদায়ের জন্য হামলা চালাত। আমি মনে করি, এগুলো নির্মূল হয়ে যাবে।
সরকারকে অস্থিতিশীল করার কোনো ষড়যন্ত্র ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারকে অস্থিতিশীল করার কোনো পরিকল্পনা এর পেছনে নেই। তারা চাঁদাবাজ। হয়তো তারা রাতারাতি কোটিপতি হতে চায়।
তিনি আরও বলেন, চক্রটির সদস্যরা চিহ্নিত অপরাধী ও বারবার অপরাধে জড়ানো ব্যক্তি। তারা প্রায়ই চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দাগি আসামি ও গডফাদারদের নাম ব্যবহার করে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা শুধু চাঁদাবাজদের তালিকাভুক্ত করছি না। কোনো পুলিশ সদস্য চাঁদাবাজদের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের তালিকাও করছি।
গত ১৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে শান্তিনগরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরছিলেন ডা. আসাদুর। অটোরিকশাটি কিছু দূর যাওয়ার পর একদল হামলাকারী সেটির গতিরোধ করে চিকিৎসককে টেনে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে ডা. আসাদুরের মাথা, নাক ও দুই চোখের আশপাশে আঘাত লাগে। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় পল্টন থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ঘটনার কয়েকদিন আগে অপরিচিত একটি মোবাইল নম্বর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ডা. আসাদুরকে ফোন করে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করে। চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের নাম ব্যবহার করে টাকা চেয়ে একটি এসএমএস পাঠানো হয়। এতে ১৫ আগস্টের মধ্যে টাকা দিতে বলা হয়েছিল। সময়সীমা শেষ হওয়ার একদিন পরই তার ওপর হামলা হয়।
