ভারতে চিকিৎসা শেষে গত বুধবার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। অপেক্ষায় ছিলেন তার বৃদ্ধ বাবা-মা ও সাত বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্ত। তাদের জন্য আনার কথা ছিল অনেক উপহার। কিন্তু তিন দিন পর দেবাশীষসহ পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ কালো কফিনে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার বাড়িতে ফিরল। যে ফেরার দিনটি হওয়ার কথা ছিল আনন্দের, তা ডুবে গেল শোকের মাতমে।
শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স দেবাশীষের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন, সহকর্মী ও প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এর আগে কলকাতায় প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছায়।
দেবাশীষের পরিবারের সদস্যরা জানান, দেবাশীষ দত্ত ও তার তিন বছর বয়সী ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তকে শহরের মহাশ্মশানে সমাধিস্থ করা হবে। আর দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন ও শ্বশুর আকরাম আলীকে শহরের পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। এতে নিহত নয়জনের মধ্যে ছিলেন দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমিন (২৭), তাদের ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্ত (৩) ও আফসানার বাবা আকরাম আলী (৬০)।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দেবাশীষ তার সাত বছর বয়সী মেয়ে মাহিমাকে দাদা-দাদির কাছে রেখে ৩ আগস্ট চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে রওনা হন। অন্যদিকে, আরেক জামাই ফিরোজের চিকিৎসার জন্য ৬ আগস্ট কলকাতা যান আকরাম আলী। ফিরোজ দেশে ফিরলেও তিনি থেকে যান। পরে মঙ্গলবার দেবাশীষ, তার স্ত্রী ও ছেলে তার সঙ্গে যোগ দেন। বুধবার নিউ মার্কেট থেকে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে তারা দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
দেবাশীষ আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। এছাড়া তিনি কুষ্টিয়ার স্থানীয় দৈনিক আজকের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন।
একই ঘটনায় নিহত ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের ব্যবসায়ী আহমেদ বাবুর মরদেহ শনিবার বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে পৌঁছায়।
এছাড়া সাতক্ষীরার বাসিন্দা আলীমুজ্জামান সাজুর মরদেহ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হয়েছে।
তবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত কালীগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকারের মরদেহ দেশে আনা হয়নি। কলকাতায় থাকা স্বজনরা শনিবার দুপুর ২টার দিকে নিমতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।
